কিছু প্রত্যাবর্তন শুধুই ফিরে আসা নয়, পুরোনো গল্পের নতুন অধ্যায়। বাংলাদেশের মহাতারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরীর শেফিল্ড ইউনাইটেডে ফেরাটাও তেমনই। এক মৌসুম আগে যে ক্লাবে ধারে গিয়ে প্রিমিয়ার লিগে ওঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, এবার সেই ক্লাবেই ফিরছেন তিনি- তবে এবার আর ধারে নয়, পাকাপাকিভাবে।
লেস্টার সিটির সঙ্গে হামজার সম্পর্কটা ছিল নিছক একজন ফুটবলারের সঙ্গে একটি ক্লাবের সম্পর্ক নয়। মাত্র সাত বছর বয়সে লেস্টারের একাডেমিতে পা রাখা, সেখান থেকে বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে ২০১৭ সালে মূল দলে অভিষেক
- দীর্ঘ পথের প্রতিটি বাঁকে জড়িয়ে আছে তার ক্যারিয়ারের স্মৃতি। লেস্টারের জার্সিতে ১৬৬ ম্যাচ খেলে এফএ কাপ, কমিউনিটি শিল্ড ও চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাও জিতেছেন বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার।
সেই দীর্ঘ সম্পর্ক এবার শেষ হতে যাচ্ছে। দুই ক্লাবের সমঝোতায় কোনো ট্রান্সফার ফি ছাড়াই ২৮ বছর বয়সী হামজাকে ছেড়ে দিচ্ছে লেস্টার। ইংল্যান্ডের দলবদলের শেষ দিনেই এই চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার কথা।
হামজার নতুন ঠিকানা অবশ্য এমন এক জায়গা, যেখানে তিনি এরই মধ্যে নিজের ছাপ রেখে গেছেন। ২০২৪-২৫ মৌসুমে লেস্টার থেকে ধারে শেফিল্ড ইউনাইটেডে গিয়ে নিয়মিত খেলেছিলেন তিনি। চ্যাম্পিয়নশিপের প্রমোশন-দৌড়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্লে-অফ ফাইনালে সান্ডারল্যান্ডের কাছে হেরে প্রিমিয়ার লিগে ওঠা হয়নি। সেই অপূর্ণতার গল্পই এবার হামজাকে আবার টেনে এনেছে ব্রামল লেনে।
তবে এবার পরিস্থিতিটা কিছুটা ভিন্ন। শেফিল্ডে হামজার প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে যেমন পুরোনো পরিচিতি, তেমনি আছে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনও। রাইট-ব্যাক ফেমি সেরিকির চোটে দলটিতে জরুরি ভিত্তিতে একজন খেলোয়াড়ের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডারও হামজাকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। মিডফিল্ডের পাশাপাশি রক্ষণেও খেলতে পারার সামর্থ্য তাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।
অন্যদিকে লেস্টারে হামজার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। ইপসউইচ টাউন ও এমকে ডনসের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই ম্যাচের স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তার। এর পরই দলবদলের গুঞ্জন জোরালো হয়। ডার্বি কাউন্টিও তার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হামজার পছন্দ হয়ে ওঠে পরিচিত পথটাই।
এই সিদ্ধান্তে ঝুঁকি যেমন আছে, তেমনি আছে যুক্তিও। শেফিল্ডে তিনি পাচ্ছেন পরিচিত পরিবেশ, পরিচিত কোচিং কাঠামো এবং এমন একটি দল, যার লক্ষ্য আবারও প্রিমিয়ার লিগে ওঠা। বাংলাদেশের ফুটবলের দিক থেকেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে থাকার সুযোগ।
লেস্টারের সঙ্গে দীর্ঘ দুই দশকের সম্পর্ক শেষ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু হামজার সামনে খুলছে নতুন দরজা। যে ক্লাবের হয়ে একবার প্রিমিয়ার লিগে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হয়নি, সেই শেফিল্ডেই এবার নতুন করে শুরু হবে তার পথচলা।
এবার আর ধার করা জার্সি নয়। হামজার জন্য শেফিল্ড হবে নিজের ক্লাব, নিজের অধ্যায়- আরও একটি বড় পরীক্ষার মঞ্চ।
-টিএস