রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মার মোড় এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে তৈরি হয়েছে ময়লার ভাগাড়। পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ড থেকে নিয়মিত সংগ্রহ করা ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের একপাশে। এছাড়া পৌর এলাকার জবাই করা পশুর বিভিন্ন বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে এখানে। এতে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারী, যাত্রী ও যানবাহনের চালকেরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য প্রতিদিন মহাসড়কের ধারে ফেলে রাখা হচ্ছে। এর পাশেই রয়েছে গোয়ালন্দ বিদ্যুৎ অফিস। সেখানে কর্মরত ব্যক্তিরাসহ প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। এতে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের নাক-মুখ চেপে ওই এলাকা পার হতে হয়। অনেক সময় দুর্গন্ধে বমি বমি ভাবও হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, চালক ও পথচারীরা।
সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে সড়কের পাশে উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলায় একদিকে যেমন বায়ু ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে পথচারীদের নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকায় বসবাস ও চলাচল করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। ময়লা-আবর্জনা থেকে ছড়িয়ে পড়া জীবাণুর কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, অ্যালার্জিসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ময়লার দুর্গন্ধে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, যানবাহনের যাত্রী, অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদাররা চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন।
পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ময়লার স্তূপে সারাদিন মশা-মাছি ভনভন করে। পচা আবর্জনা ও সেগুলো পোড়ানোর ধোঁয়ার তীব্র গন্ধে চলাচল করতে কষ্ট হয়। গাড়িচালকদের ময়লার স্তূপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চলে যেতে হয়। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। উন্মুক্ত স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় বাতাসের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নাকে হাত দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। এছাড়া ময়লার ভাগাড়ের কারণে নষ্ট হচ্ছে এলাকার পরিবেশ।
এছাড়া পাশেই মরা পদ্মা নদী থাকায় ময়লা-আবর্জনা সরাসরি নদীর পানিতে গিয়ে মিশছে। এই নদীতে স্থানীয় লোকজন গোসল, জামাকাপড় ধোয়া ও গবাদিপশু গোসল করানোর কাজ করেন। ফলে নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পথচারী মুসারফ ও অটোরিকশাচালক সাগর মোল্লা বলেন, ‘এলাকাটায় এত বর্জ্য জমে থাকে যে হাঁটাচলা করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে শ্বাস নেওয়া যায় না। কুকুর ময়লা রাস্তায় টেনে আনে। এতে অনেক সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাও ঘটে। বৃষ্টির সময় ময়লার পানি রাস্তায় মিশে আরও দুর্গন্ধ ছড়ায়।’
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সাইফুল হুদা বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। ডাম্পিং স্টেশনের কাজ কতদূর এগিয়েছে, সে বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে ময়লা-আবর্জনা ডাম্পিং স্টেশনে ফেলার ব্যবস্থা করব।’
এসআই/আরএন