ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানাধীন চর-কলমী ইউনিয়নে ৭২ নম্বর দক্ষিণ চরমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৪ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের মাঠের জমি ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে ভরাট করে তড়িঘড়ি করে স্থাপনা নির্মাণ করায় স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রশাসন ও শশীভূষণ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর-কলমী ইউনিয়নের চর মঙ্গল গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৬৮ সালে মোট ৬৬ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ বছর ধরে জমিটি বিদ্যালয়ের ভোগদখলে ছিল এবং সেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় ফখরুল নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ইব্রাহিম পাটওয়ারী ও নাসিমসহ কয়েকজন ব্যক্তি কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বিদ্যালয়ের জমিতে দখল নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তারা দিনে-দুপুরে ভেকু দিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশের মাটি ভরাট করেন এবং রাতের আঁধারে একটি টিনের চালার ঘর নির্মাণ করে জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। বিদ্যালয়ের জমি ও মাঠ এভাবে বেদখল হয়ে যাওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ ও প্রধান শিক্ষক জানান, তাঁদের কোনো কিছু না জানিয়ে সম্পূর্ণ জবরদস্তিমূলকভাবে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও আঙিনার জমি দখল করা হয়েছে। কোমলমতি শিশুদের খেলাধুলার একমাত্র জায়গাটির বড় একটি অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি) ও স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। অবিলম্বে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিদ্যালয়ের সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফখরুল ও ইব্রাহিম পাটওয়ারী বলেন, ‘নাসিম নামের একজন ব্যক্তি এই জমির ক্রয়সূত্রে মালিক। তাই তিনি জমি দখল নিয়েছেন। আমরা শুধু দেখভাল করেছি। আমরা সরাসরি জমি দখল করিনি।’
নাসিম বর্তমানে তাঁর কর্মস্থল ঢাকায় রয়েছেন। তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের জমি কেউ দখল করে থাকলে প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে প্রশাসনের নজরে আসে ঘটনাটি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চরফ্যাশন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখলের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি বা বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করার অধিকার কারও নেই। সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএফ/আরএন