ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ নবীনগর উপজেলাবাসী
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০০ পিএম
প্রতীকী ছবি
X

প্রতীকী ছবি

বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলাবাসী। আকাশে মেঘ জমলেই চলে যায় বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর কখন আসবে, তারও ঠিক নেই। আবার কোনো কোনো গ্রামে দুই-তিন দিনেও বিদ্যুৎ আসে না। যতক্ষণ মেঘ-বৃষ্টি থাকে, ততক্ষণ বিদ্যুতের দেখা মেলে না। এর বাইরেও ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিপর্যয় তো রয়েছেই।

ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে পুরো উপজেলায় বিদ্যুতের গ্রাহক প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি। পাঁচটি সাবস্টেশনের মাধ্যমে গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে নবীনগর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পল্লী বিদ্যুতের নিয়োগকৃত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিম্নমানের বিদ্যুৎ সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে সামান্য বাতাস বা ঝড়ো হাওয়া হলেই তার ছিঁড়ে যায়। আবার রোদের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে এসব তার গলে যায়। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যুৎ চলে গেলে খবর নেওয়ার জন্য নবীনগর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ফোন করলে তারা ফোন রিসিভ করেন না বা ফোন ব্যস্ত করে রাখেন—এমন অভিযোগও রয়েছে গ্রাহকদের। বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়ে কোনো সচেতনতামূলক মাইকিং বা প্রচার-প্রচারণাও করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে নবীনগর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুতের ভোগান্তির জন্য কখনো লোডশেডিং, কখনো সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি, কখনো গাছ কাটা আবার কখনো ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যা দায়ী। ফলে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে।

নবীনগর পৌর সদর বাজারের ব্যবসায়ী মো. নাঈম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শনিবার থেকে বুধবার—এক সপ্তাহ সারা রাত বিদ্যুৎ ছিল না। দিনের বেলাতেও রবিবার সারাদিন বিদ্যুৎ ছিল না। এ ছাড়া আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ চলে যায়। একবার আসে, আবার যায়। এই দুই দিনে অন্তত ১৫-১৬ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। কীভাবে ব্যবসা করব? আমাদের অনলাইন ব্যবসা বিদ্যুৎ ছাড়া এক মুহূর্তও চলে না।”

এ বিষয়ে বিদ্যাকুট গ্রামের আশ্রাফুল বলেন, “গত দুই দিন ধরে এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। ছেলে-মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্ট করছি। দেশে এত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। আর নবীনগরে দেখি বিদ্যুৎ আসে আর যায়।”

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ঘরের ইলেকট্রনিক পণ্য নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে, বিদ্যুতের সমস্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মকর্তা জানান, নবীনগর উপজেলা একটি বড় উপজেলা, এখানে গ্রাহকের সংখ্যাও বেশি। একটি বড় উপজেলা হিসেবে যতটুকু বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে, তার অর্ধেকও বিদ্যুৎ লোড পাওয়া যায় না নবীনগর উপজেলায়। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে নবীনগর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. ওয়াদুদ হোসেন বলেন, “আমাদের চাহিদা ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আমরা পাচ্ছি ১২ দশমিক ০৭ মেগাওয়াট। এ ছাড়া লাইনে সমস্যা হলে আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারি না। বর্ষা মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টির সমস্যাও তো আছেই। পল্লী বিদ্যুতের সরঞ্জামাদি নিম্নমানের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা চেষ্টা করছি বিদ্যুৎ সেবা ভালো দিতে।”

এমএস/আরএন

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝