ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের বেতুয়া মাঝের ঘাট এলাকায় নদীপথে অবৈধভাবে সার পাচারের সময় একটি বাল্কহেড (বলগেট) ও ২৯৩ বস্তা ইউরিয়া সারসহ চারজনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের চরফ্যাশন থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ২টার দিকে বেতুয়া নদীর ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে বেতুয়া মাঝের ঘাটসংলগ্ন নদীতে একটি সন্দেহভাজন বাল্কহেড নোঙর করা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় ঘাট শ্রমিক ও এলাকাবাসী। একটি ট্রলার থেকে বস্তাভর্তি রাসায়নিক সার বাল্কহেডে তোলার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।
পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নৌযানের চালক ও শ্রমিকরা কোনো বৈধ কাগজপত্র বা চালান দেখাতে ব্যর্থ হন। সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত এসব সার কালোবাজারি ও পাচারের উদ্দেশ্যে নদীপথে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল—এমন সন্দেহে স্থানীয়রা বাল্কহেডটি অবরুদ্ধ করেন এবং সারের বস্তাসহ চারজনকে হাতেনাতে আটক করে রাখেন।
খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চরফ্যাশন উপজেলার স্থানীয় একটি ডিলার চক্রের সহায়তায় এসব সার অবৈধভাবে অন্যত্র পাচার করা হচ্ছিল। তবে তদন্তের পরই পাচারের প্রকৃত গন্তব্য ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ ভূইয়া বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে বেতুয়া ঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে একটি ট্রাক থেকে ফিশিং বোটে ইউরিয়া সার লোড করার সময় সারগুলো আটক করা হয়েছে। এ সময় ট্রাক ও ফিশিং বোটসহ চার শ্রমিককে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানার চর আফজাল ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে পারভেজ হোসেন (৩৭), হাতিয়া থানার জাহাজমারা মৌলভীরঘোনা ১ নম্বর ওয়ার্ডের হসিউল আলমের ছেলে সিরাজ (৫৭), নোয়াখালী জেলার চরজব্বার থানার চর কেলাক ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অহিদ হাওলাদারের ছেলে সোহেল (২৮) এবং হাতিয়া থানার পশ্চিম রসুলপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নবীর উদ্দিনের ছেলে শাহারাজ (৪০)।
ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হবে।
স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, মাঠে চাষাবাদের মৌসুমে আমরা চরফ্যাশনের ডিলারদের কাছে গিয়ে বর্তমান সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাই না। ডিলাররা সার সংকটের কথা জানান। অথচ রাতের আঁধারে একটি চক্র লাখ লাখ টাকার সার এভাবে নদীপথে কালোবাজারিদের কাছে পাচার করে দিচ্ছে। আমরা এই চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এসএফ/আরএন