⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম

X
সংগৃহীত ছবি
একটি ম্যাচের ফল কখনো কখনো শুধু দুই দলের জয়-পরাজয়ের হিসাব থাকে না, বদলে দিতে পারে অন্য দলের ভাগ্যও। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের তৃতীয় ওয়ানডের ফল যেন তারই উদাহরণ। বেলফাস্টে ৩ উইকেটের জয় নিয়ে আফগানিস্তান সিরিজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার টিকিটও নিশ্চিত করেছে।
আফগানিস্তানের এই জয়ে সবচেয়ে বড় সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ের আগেই সরাসরি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত হয়েছে টাইগারদের। বিপরীতে বড় ধাক্কা খেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। র্যাঙ্কিংয়ের সমীকরণে আর বাংলাদেশকে টপকে সরাসরি বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ নেই ক্যারিবীয়দের। ফলে আগামী বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে তাদের আবারও বাছাইপর্বের কঠিন লড়াইয়ে নামতে হবে।
রশিদের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে আফগানিস্তানের জয়
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে ২০৬ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। রান তাড়ায় ৩৬ ওভার শেষে ১৭৬ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান। তবে অধিনায়ক রশিদ খান এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয় এনে দেন।
রশিদ ৩৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। এর আগে বল হাতে ৪৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ব্যাট ও বল—দুই বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি। আফগানিস্তানের হয়ে রহমানউল্লাহ গুরবাজ করেন ৭১ রান।
এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফগানিস্তান। একই সঙ্গে টানা চতুর্থ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করে তারা।
বাংলাদেশের সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের র্যাঙ্কিং গুরুত্বপূর্ণ। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকা শীর্ষ আটে থাকায় তাদের জায়গাটি বাদ দিয়ে পরের দলও সরাসরি বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ পাবে। সেই হিসাবেই বাংলাদেশের জন্য পথটি খুলে যায়।
বাংলাদেশ বর্তমানে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে নবম অবস্থানে। আফগানিস্তান আট নম্বরে উঠে সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করায় বাংলাদেশেরও মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত হয়ে যায়। অন্যদিকে দশম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে বাংলাদেশকে টপকে সরাসরি বিশ্বকাপে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকল না।
সরাসরি বিশ্বকাপে যারা
বাংলাদেশের সঙ্গে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করেছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তান। স্বাগতিক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েও বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলবে।
ফলে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া দলগুলোর তালিকায় বাংলাদেশও এখন নিশ্চিতভাবে রয়েছে। এতে বাছাইপর্বের অনিশ্চিত লড়াই এড়াতে পারছে বাংলাদেশ।
আবারও বাছাইপর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
আফগানিস্তানের জয় সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। র্যাঙ্কিংয়ে দশম স্থানে থাকা দলটির সামনে এখন আর সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার কোনো পথ নেই।
ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটি ওয়ানডে এখনো বাকি। তবে ওই ম্যাচগুলো জিতলেও র্যাঙ্কিংয়ের হিসাবে বাংলাদেশকে টপকে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়া সম্ভব হবে না। ফলে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আবারও বাছাইপর্বের পথ ধরতে হবে।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলার অভিজ্ঞতা অবশ্য ক্যারিবীয়দের নতুন নয়। ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে বাছাইপর্ব খেলেও তারা মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল। তবে ২০২৩ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সুপার সিক্সে জিম্বাবুয়ে ও নেদারল্যান্ডসের কাছে হারের পর স্কটল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্ব থেকে ছিটকে যায় তারা।
এরপর ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও জায়গা হয়নি ক্যারিবীয়দের। এবার ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে আবারও কঠিন পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়েছে দলটি।
বাছাইপর্বের পরও পেরোতে হবে ‘সুপার সিরিজ’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য এবারের পথ আরও কঠিন হতে পারে। শুধু বাছাইপর্বে ভালো করলেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত হবে না; সেখানেও নির্দিষ্ট ধাপ পেরোতে হবে।
২০২৭ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে মোট ১০টি দলের অংশ নেওয়ার কথা। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি বিশ্বকাপ লিগ-২ থেকে চারটি এবং প্লে-অফ থেকে আরও চারটি দল বাছাইপর্বে জায়গা পাবে।
বাছাইপর্বের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার সুযোগ পাবে। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ হওয়া দলকে খেলতে হবে ‘সুপার সিরিজ’। তিন দলের এই লড়াই থেকে সেরা দলটি পাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ।
অর্থাৎ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে বিশ্বকাপের মূল পর্বে পৌঁছানোর পথ মোটেও সহজ নয়। একাধিক ধাপ পেরিয়েই তাদের ২০২৭ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের জয়ে বাংলাদেশ আগেই নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের মূল পর্ব। আর বেলফাস্টের সেই ম্যাচটি হয়ে থাকল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের সমীকরণ বদলে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।