⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২০ পিএম

X
দিন গুনছিল বাংলাদেশ। আগামী ২৮ আগস্ট ঢাকায় আসার কথা ছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলের। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা ও শুবমান গিলদের ঘিরে ছয় ম্যাচের সিরিজ আয়োজনের প্রস্তুতিও ধীরে ধীরে গতি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় যত ঘনিয়ে এসেছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে- এই মুহূর্তে মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২৮ আগস্ট থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকা বাংলাদেশ-ভারত সিরিজটি আবারও পিছিয়ে যাওয়ার পথে। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য পুরোপুরি হতাশ হওয়ার মতো খবর নয়। সিরিজ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়নি; বরং নতুন একটি সময় নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা করতে চাইছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
ছয় ম্যাচের এই সিরিজটি মূলত গত বছরের আগস্টে হওয়ার কথা ছিল। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তখন সেটি স্থগিত করা হয়। পরে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে যোগাযোগ বাড়লে চলতি বছরের আগস্টে সিরিজটি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২৮ আগস্ট থেকে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টির সূচিও তৈরি করা হয়।
একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাঠে ফিরতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট। দুই বোর্ডের আলোচনাতেও ইতিবাচক অগ্রগতি ছিল। স্কটল্যান্ডে আইসিসির সভা এবং পরে দুবাইয়ে আইসিসির ফ্র্যাঞ্চাইজি কমিটির বৈঠকের সময় বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সফর নিয়ে আলোচনা হয়। তখন ভারতীয় বোর্ডের অনাগ্রহের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি।
তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি যে শুধু ক্রিকেট বোর্ডগুলোর হাতে নেই, সেটিই আবার সামনে এসেছে। বিসিবি সূত্রের দাবি, ভারতীয় বোর্ড মূলত সরকারের অবস্থানের দিকে তাকিয়ে ছিল। একইভাবে বিসিবিও দুই দেশের সরকারের মধ্যকার আলোচনার ওপর নির্ভর করছিল।
এর মধ্যে গত বুধবার নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর আগস্টে ক্রিকেট সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনাও অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। দুই বোর্ডও বুঝতে পারে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে সিরিজ আয়োজন করা কঠিন।
সিরিজ শুরুর আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও সম্প্রচারসহ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি সেভাবে এগোয়নি। আন্তর্জাতিক সিরিজের আগে সাধারণত যে বাণিজ্যিক ও সম্প্রচার-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয়, এবার সেগুলো কার্যত থমকে ছিল। এতে নির্ধারিত সময়ে সিরিজ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এখন তাই প্রশ্ন শুধু ২৮ আগস্ট সিরিজ হবে কি না- বরং নতুন তারিখ কবে হতে পারে। বিসিবি সূত্র বলছে, দুই বোর্ড শিগগিরই নতুন সময় নিয়ে আলোচনা করতে পারে। ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারিকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সূচি, বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), এবং ভারতীয় দলের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে।
বিপিএলের কারণে ওই সময়ে সিরিজ আয়োজনের সুযোগ না থাকলে এটি আরও পিছিয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সফরসূচির কোনো একটি সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজটি সমন্বয় করার চেষ্টা হতে পারে। একটি সিরিজ পিছিয়ে যাওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত সফর, সিরিজ কিংবা অন্য কোনো ক্রিকেটীয় আয়োজনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
অর্থাৎ, আপাতত বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সম্পর্কের দরজা বন্ধ হচ্ছে না; শুধু ২৮ আগস্টের নির্ধারিত দরজাটি খুলছে না। ছয় ম্যাচের যে লড়াই ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষা, সেটি হয়তো আরও কিছুটা পিছিয়ে যাবে। তবে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের চেষ্টা থাকবে- সুযোগমতো সেই লড়াইকে আবারও মাঠে ফেরানো।