খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজারে হঠাৎ করেই কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্য কিনতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিত্যদিনের বাজার ব্যয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দিঘলিয়ার পথের বাজার, সেনহাটি বাজার ও বারাকপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৮০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ সপ্তাহখানেক আগেও একই মরিচ ১০০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
বাজার করতে আসা গৃহিণী রেহানা বেগম বলেন, “প্রতিদিনের রান্নায় কাঁচা মরিচ অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান দামে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম কিনতে হচ্ছে। অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও বেশি, তার ওপর মরিচের মূল্যবৃদ্ধি আমাদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।”
ইজিবাইক চালক আব্দুল হামিদ বলেন, “দিনে যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে। এখন মরিচের মতো সাধারণ একটি পণ্য কিনতেও হিসাব করে চলতে হচ্ছে।”
ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করা ছাড়া তাদের বিকল্প নেই।
পথের বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুল মজিদ বলেন, “আমরাও বেশি দামে মরিচ কিনে আনছি। পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে সরবরাহও কম। তাই দাম বেড়েছে। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়াই না।”
আরেক বিক্রেতা নাসির উদ্দিন বলেন, “বর্ষার কারণে অনেক এলাকায় মরিচের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করছি।”
এদিকে কাঁচা মরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাদের মতে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভোক্তাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
স্থানীয় সচেতন মহলেরও অভিমত, কৃষিপণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কাঁচা মরিচসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কমবে।
ওএম/এসআর