বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা, অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষার ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) বিবিএ শিক্ষার্থী রুমাইয়া করিম রামিসা। নারীদের জুয়েলারি নিয়ে গড়ে তোলা তার ব্র্যান্ড ‘দেshe’ এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
বন্ধুমহলে নান্দনিক রুচির জন্য পরিচিত রামিসার সেই আগ্রহই একসময় পরিণত হয় উদ্যোক্তা হওয়ার প্রেরণায়। শুরুতে বিভিন্ন স্থান থেকে জুয়েলারি সংগ্রহ করে বিক্রি করলেও পরে নিজস্ব ডিজাইনের ধারণা নিয়ে কারিগরদের মাধ্যমে তৈরি করতে শুরু করেন নতুন নতুন নকশার অলংকার। পেশাদার ডিজাইনার না হয়েও সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তৈরি করেছেন নিজস্ব ব্র্যান্ড পরিচয়।
রামিসা বলেন, “ছোটবেলা থেকেই ব্যবসা করার ইচ্ছা ছিল। প্রচলিত চাকরির প্রতি আগ্রহ ছিল না। নিজের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার স্বপ্ন থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার পথচলা শুরু।”
২০২০ সালে উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পথটি সহজ ছিল না। বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ব্যর্থতা ও লোকসানের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তবে হাল ছাড়েননি। দীর্ঘ পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের পর ২০২৫ সালে ‘দেshe’ ব্র্যান্ডকে একটি সফল অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হন।
তিনি বলেন, “এই যাত্রায় অনেকবার ব্যর্থ হয়েছি, অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। কিন্তু কখনো থেমে যাইনি। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেই এগিয়ে গেছি।”
বর্তমানে ‘দেshe’-এর সংগ্রহে রয়েছে কাশ্মীরি চুড়ি, তুর্কিশ রিং, অ্যান্টি-টার্নিশ রিং, গ্লাস ঝুমকা, বিভিন্ন ধরনের বালা ও ফ্যাশন জুয়েলারি। পণ্যগুলোর দাম ৩৫০ টাকা থেকে প্রায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
পণ্যের মান নিয়েও বিশেষভাবে সচেতন রামিসা। তিনি জানান, তাদের প্ল্যাটফর্মে শতভাগ মানসম্মত আমদানিকৃত পণ্য সরবরাহ করা হয়। ক্রেতাদের কাছে পণ্যের উৎস ও মান সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য দেওয়া হয়। পাশাপাশি কোনো ত্রুটি থাকলে দুই দিনের মধ্যে পণ্য পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।
‘দেshe’-এর আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হয় পাকিস্তানের একটি অর্ডারের মাধ্যমে। রামিসা জানান, ইনস্টাগ্রামে একটি রিল জনপ্রিয় হওয়ার পর বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে সাড়া আসতে শুরু করে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ‘মাওলা মেরে ঝুমকা’ নিয়ে করা একটি ভিডিও থেকেই প্রথম আন্তর্জাতিক অর্ডার পান তিনি।
তিনি বলেন, “প্রথম আন্তর্জাতিক অর্ডারটি এসেছিল পাকিস্তান থেকে। এরপর ভারত, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকেও অর্ডার পেয়েছি। ভবিষ্যতে আরও নতুন দেশে ব্র্যান্ডটি পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য।”
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করতে গিয়ে শিপিং ও লজিস্টিক ব্যবস্থাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা। তার মতে, আন্তর্জাতিক শিপিং আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হলে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক বাজারে আরও ভালোভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থার ব্র্যান্ড— রুমাইয়া করিম রামিসার এই পথচলা দেখিয়ে দিয়েছে, সৃজনশীলতা, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস থাকলে ছোট উদ্যোগও একদিন বিশ্ববাজারে জায়গা করে নিতে পারে।