ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
সবসময় ক্লান্ত: শরীরের ভেতরে কী ঘটছে?
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
X

একটি ব্যস্ত দিন শেষে ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। নিদ্রাহীন রাত, কাজের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা দীর্ঘ সময়ের মানসিক চাপ—সবকিছুই শরীরকে পরিশ্রান্ত করে তুলতে পারে। কিন্তু যখন ক্লান্তি প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে ওঠে, আট ঘণ্টার ঘুমও যখন চার ঘণ্টার মতো মনে হয়, তখন বিষয়টি শুধু ব্যস্ত জীবনযাত্রার ফল নাও হতে পারে।

অনেকে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিকে বয়স বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কাজ কিংবা মানসিক চাপের স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, কখনো কখনো শরীরের ভেতরের ক্ষুদ্র স্তর থেকেই আসতে পারে এই সংকেত। সমস্যার সূত্র থাকতে পারে কোষের শক্তি উৎপাদন ব্যবস্থায়।

কোষের ভেতরের শক্তিঘর যখন দুর্বল হয়ে পড়ে

মানবদেহের প্রতিটি কোষের ভেতরে থাকে মাইটোকন্ড্রিয়া—যাকে বলা হয় কোষের ‘শক্তিঘর’। এই ক্ষুদ্র কাঠামোগুলো খাবার থেকে শক্তি তৈরি করে, যা শরীরের প্রতিটি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজন।

যখন মাইটোকন্ড্রিয়া সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, তখন কোষ পর্যাপ্ত শক্তি উৎপাদন করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক কাজগুলোও কঠিন মনে হতে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় কোষীয় ক্লান্তি (Cellular Fatigue)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং বার্ধক্যের মতো বিষয়গুলো মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

কফি নয়, সমস্যার গভীরে থাকতে পারে অন্য কারণ

অনেকেই ক্লান্তি কাটাতে বারবার কফি বা ক্যাফেইনের ওপর নির্ভর করেন। এতে সাময়িকভাবে সতেজতা ফিরলেও মূল সমস্যার সমাধান হয় না। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার ফিরে আসে ঝিমুনি ও শক্তিহীনতা।

কোষীয় শক্তি কমে গেলে সাধারণ কাজ—যেমন সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা, মিটিংয়ে সক্রিয় থাকা বা স্বাভাবিক কথোপকথন চালিয়ে যাওয়াও কঠিন মনে হতে পারে।

জীবনযাপনের অভ্যাস কীভাবে বাড়ায় কোষের চাপ

ক্লান্তির পেছনে সাধারণত একটি মাত্র কারণ কাজ করে না। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের পুনরুদ্ধার ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরকে সবসময় সতর্ক অবস্থায় রাখে। এতে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা ঘুম, কোষের মেরামত এবং স্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, ঘুম শুধুমাত্র বিশ্রামের সময় নয়। ঘুমের মধ্যেই শরীর ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই পর্যাপ্ত সময় বিছানায় কাটালেও ঘুমের মান খারাপ হলে শরীর সতেজ অনুভব নাও করতে পারে।

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও একটি বড় কারণ। নিয়মিত শরীরচর্চা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যক্ষমতা উন্নত করে এবং সামগ্রিক শক্তি বৃদ্ধি করে। দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের সহনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে।

নীরবে বাড়তে থাকা কিছু সতর্ক সংকেত

কোষীয় ক্লান্তির লক্ষণ অনেক সময় শুরুতে স্পষ্ট হয় না। অনেকেই মনে করেন, তাদের শুধু একটু বিশ্রাম বা ছুটির প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ক্লান্তি শরীরের ভেতরের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।

সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা ও অবসাদ, মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা, স্বাভাবিক কাজেও অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় হওয়ার অনুভূতি, শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধারে দেরি হওয়া।

ক্লান্তি কখন চিকিৎসার বিষয় হয়ে ওঠে?

দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি শুধু দৈনন্দিন জীবনের মান কমায় না, কখনো কখনো এটি অন্য স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। গবেষণায় কোষীয় শক্তির ভারসাম্যহীনতার সঙ্গে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্রনিক ফ্যাটিগ সিন্ড্রোম, নিউরোডিজেনারেটিভ সমস্যা, অটোইমিউন রোগ ও দ্রুত বার্ধক্য প্রক্রিয়ার মতো বিষয়গুলোর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

তবে ক্লান্তি থাকলেই যে এসব রোগ রয়েছে, এমন নয়। দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির পেছনে রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েড সমস্যা, সংক্রমণ, পুষ্টির ঘাটতি, ঘুমের ব্যাধি বা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাও থাকতে পারে।

তাই দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে অবহেলা না করে এর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের দেওয়া ছোট ছোট সংকেতগুলো অনেক সময় বড় কোনো সমস্যার আগাম বার্তা হতে পারে।

আরএন


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝