রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন—এমন গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সরকার ও বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে এ-সংক্রান্ত বার্তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও একটি সূত্র ইঙ্গিত দিলেও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় রয়েছে। দলীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, এদের মধ্য থেকেই একজনকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।
এদিকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা একজন জ্যেষ্ঠ সচিবের নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় এসেছে। বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের দাবি করেন, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন এবং সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রপতি পদে নিজের নাম আলোচনায় থাকার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তার ভাষায়, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অনেকের নামই আলোচনায় আসতে পারে, যা স্বাভাবিক।
অন্যদিকে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দলটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তবে তিনি এ দায়িত্ব নিতে আগ্রহী কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। যদিও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা ভোট দেন, বাস্তবে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হওয়ার রীতি প্রচলিত।
সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সংসদে যদি বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তবে দলটির মনোনীত প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ কিংবা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সরকারি ঘোষণা আসেনি। ফলে পুরো বিষয়টি এখনো রাজনৈতিক আলোচনা, বিভিন্ন সূত্রের দাবি এবং জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এসআর