ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
দৈনন্দিন অভ্যাস বদলেই কমতে পারে ব্যাক পেইন
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫৫ এএম
ফাইল ছবি
X

ফাইল ছবি

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা আর অনিয়মিত জীবনযাত্রা সব মিলিয়ে পিঠ বা কোমরের ব্যথা এখন অনেকের নিত্যসঙ্গী। একসময় যেটিকে বয়সজনিত সমস্যা মনে করা হতো, বর্তমানে তা তরুণদের মধ্যেও সমানভাবে দেখা যাচ্ছে। অথচ সামান্য কিছু সচেতনতা আর অভ্যাসের পরিবর্তনেই এই অস্বস্তিকর যন্ত্রণা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

পিঠের ব্যথা কমানোর মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে শরীরের কেন্দ্রীয় পেশি বা কোর মাসলের শক্তিতে। আমাদের শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে এই পেশিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে এগুলোর ব্যবহার কম হওয়ায় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে মেরুদণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং ব্যথা তৈরি হয়। নিয়মিত হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে এই পেশিগুলো সচল রাখলে পিঠ অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে।

একইভাবে পেশির নমনীয়তাও অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা একভাবে কাজ করার কারণে পেশি শক্ত হয়ে গেলে তা মেরুদণ্ডে চাপ বাড়ায়। তাই প্রতিদিন অল্প সময় হলেও স্ট্রেচিং করার অভ্যাস শরীরকে নমনীয় রাখে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এই ছোট অভ্যাসটিই দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

আমাদের বসার ভঙ্গিমাও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে কুঁজো হয়ে বসে থাকেন, যা মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠনে চাপ সৃষ্টি করে। মাঝে মাঝে উঠে দাঁড়ানো, হাঁটা বা শরীর সোজা করে বসার অভ্যাস পিঠের ওপর চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

হাঁটা এমন একটি সহজ ব্যায়াম, যা প্রায় সবাই করতে পারেন। নিয়মিত হাঁটলে শুধু শরীরই সুস্থ থাকে না, ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে। অতিরিক্ত ওজন পিঠের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, তাই ওজন ঠিক রাখা ব্যাক পেইন কমানোর অন্যতম উপায়।

দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট অসাবধানতাও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। যেমন ভারি কোনো জিনিস তোলার সময় ভুল ভঙ্গিতে শরীর বাঁকানো। এতে হঠাৎ পেশিতে টান লেগে তীব্র ব্যথা হতে পারে। তাই ভারি কিছু তোলার সময় পায়ের শক্তি ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন হলে অন্যের সাহায্য নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

ঘুমের ভঙ্গিও পিঠের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সঠিকভাবে না ঘুমালে সারারাত মেরুদণ্ডের ওপর চাপ পড়ে। হাঁটুর নিচে বা দুই হাঁটুর মাঝে বালিশ ব্যবহার করলে পিঠের ওপর চাপ কমে এবং ঘুমও আরামদায়ক হয়।

শরীরের বাড়তি ওজন পিঠের পেশি ও মেরুদণ্ডে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে মেরুদণ্ড একদিকে হেলে যেতে পারে বা মেরুদণ্ডের হাড়ের স্বাভাবিক বক্রতা নষ্ট হতে পারে। তাই পিঠ ভালো রাখতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি ।

এছাড়া ধূমপানের মতো অভ্যাস পিঠের সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। এটি মেরুদণ্ডের ডিস্কে রক্ত চলাচল কমিয়ে দেয় এবং হাড়ের ক্ষয় বাড়ায়। তাই সুস্থ পিঠের জন্য এই অভ্যাস ত্যাগ করাও জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পিঠের ব্যথাকে কখনো অবহেলা করা উচিত নয়। জীবনযাত্রার ছোট পরিবর্তনগুলোই পারে বড় ধরনের সমস্যাকে দূরে রাখতে। তবে যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা হঠাৎ তীব্র হয়ে ওঠে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সুস্থ পিঠ মানেই স্বস্তির জীবন।

এসএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝