ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
প্রিয় দলের পরাজয়ে ভেঙে না পড়ে যেভাবে সামলাবেন নিজেকে
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
X Advertisement

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই কোটি মানুষের আবেগের উৎসব। প্রথম বাঁশি থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রিয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে, বন্ধুদের সঙ্গে রাত জেগে খেলা দেখা, প্রতিটি গোলের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া—সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং অনেকের জীবনের স্মৃতি।

কিন্তু এই আনন্দের ভিড়েই আসে হতাশার মুহূর্ত। প্রিয় দল হেরে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ট্রল, মিম আর ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের ঝড়। কারও কাছে এটি হাসির বিষয় হলেও, অনেক সমর্থকের জন্য এটি মানসিক অস্বস্তি ও চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই শুধু হার নয়, ট্রলকেও কীভাবে সামলাতে হবে—তা জানা জরুরি।

ফুটবলকে শুধু খেলা হিসেবেই দেখা

প্রিয় দল হারলে মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। একজন সমর্থক বছরের পর বছর ধরে নিজের দলের সঙ্গে আবেগের বন্ধন গড়ে তোলেন। কিন্তু একটি ম্যাচের ফল কখনোই ব্যক্তিগত সাফল্য বা ব্যর্থতার মাপকাঠি নয়। ফুটবলের সৌন্দর্যই এর অনিশ্চয়তায়—আজ যে দল হেরেছে, কাল সেই দলই আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তাই একটি পরাজয়কে জীবনের বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।

ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না নেওয়া

বিশ্বকাপ চলাকালে মিম ও ট্রল প্রায় সংস্কৃতির অংশ। অনেকেই শুধু বিনোদনের জন্য এগুলো তৈরি করেন। তাই প্রতিটি পোস্ট বা মন্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নেওয়া ঠিক নয়। সব কিছুর জবাব দেওয়াও জরুরি নয়—অনেক সময় নীরব থাকাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিক্রিয়া।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিরতি নেওয়া

ট্রলের কারণে যদি মানসিক অস্বস্তি বাড়ে, তাহলে কিছু সময়ের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা ভালো। কয়েক ঘণ্টা বা এক-দুই দিনের বিরতি মনকে শান্ত করে। সব খবর সঙ্গে সঙ্গে জানা জরুরি—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

হাস্যরস গ্রহণ করার মানসিকতা

সব ট্রলই অপমান করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয় না। অনেক মিম কেবল মজার জন্য বানানো, যা দুই দলের সমর্থকরাই উপভোগ করেন। নিজের দলকে নিয়ে হালকা হাসতে পারা মানসিক পরিপক্বতার অংশ। খেলাকে খেলাই হিসেবে রাখতে পারলে বিষয়গুলো সহজ হয়ে যায়।

অনলাইন তর্ক এড়িয়ে চলা

অনেক সমর্থকই মন্তব্যের ঘরে দীর্ঘ তর্কে জড়িয়ে পড়েন, কিন্তু এতে মত পরিবর্তন খুব কমই হয়। বরং সময় নষ্ট, মানসিক চাপ বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দিলে তা এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

নিজের অনুভূতিকে স্বীকার করা

দল হারলে মন খারাপ হওয়া, হতাশা লাগা—এসব স্বাভাবিক অনুভূতি। এগুলো অস্বীকার করার দরকার নেই। তবে এই অনুভূতি যেন দৈনন্দিন জীবন, কাজ বা সম্পর্কের ওপর প্রভাব না ফেলে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বাস্তব জীবনে ফিরে যাওয়া

খেলা শেষে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, হাঁটাহাঁটি, বই পড়া বা নিজের শখের কাজে মন দেওয়া মানসিকভাবে সহায়তা করে। এতে হতাশা ধীরে ধীরে কমে আসে। মনে রাখতে হবে—ফুটবল জীবনের একটি অংশ, পুরো জীবন নয়।

প্রতিপক্ষকে সম্মান করা

একজন প্রকৃত ক্রীড়াপ্রেমীর বড় গুণ হলো প্রতিপক্ষের ভালো খেলাকে সম্মান করা। আপনার দল হারলেও বিজয়ী দলের পারফরম্যান্সকে স্বীকৃতি দেওয়া খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা তৈরি করে। সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই খেলাধুলার আসল সৌন্দর্য।

কখন ট্রলকে গুরুত্ব দেবেন

সব মন্তব্য সমান নয়। যদি কোনো ট্রল ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশ্লীলতা বা ঘৃণামূলক বক্তব্যে রূপ নেয়, তাহলে সেটি সহ্য করার দরকার নেই। প্রয়োজন হলে মিউট, ব্লক বা রিপোর্ট করুন। মানসিক সুস্থতা অনলাইন বিতর্কের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বকাপের আসল আনন্দ শুধু ট্রফি জেতায় নয়, বরং কোটি মানুষের একসঙ্গে খেলা উপভোগ করা, স্মৃতি তৈরি করা এবং ফুটবলের সৌন্দর্যকে উদযাপনের মধ্যেই। তাই প্রিয় দল হারলেও সেই আবেগকে দীর্ঘস্থায়ী হতাশায় পরিণত হতে দেবেন না।

কারণ একজন সত্যিকারের সমর্থক শুধু জয়ের সময় নয়, হারার সময়েও নিজের দলের পাশে থাকেন। প্রতিটি পরাজয়ই নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ—এটাই ফুটবলের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.

Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; 01550707297 Advertisement: 41053012; 01550707291, E-mail: [email protected] [email protected]
🔝