লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়ন সীমান্তে দুই দফায় সিমেন্টের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করেছে বলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে বিএসএফ সদস্যরা নির্মাণকাজ বন্ধ করে ফিরে যায়। পরে উভয় বাহিনীর মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মতি হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (এডি) কারিমুল ইসলাম।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাটগ্রামের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তের বিপরীতে ভারতের কুচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমার হাড়িকামাত (পানিশালা) এলাকায় সোমবার দুপুরে ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পানিশালা-১ ক্যাম্পের সদস্যরা শ্রমিকদের নিয়ে পূর্বে স্থাপিত বাঁশের খুঁটি সরিয়ে সিমেন্টের খুঁটি স্থাপনের কাজ শুরু করেন। স্থানটি ৮৪৫ নম্বর প্রধান সীমান্ত পিলারের ১ ও ২ নম্বর উপ-পিলারের কাছে, শূন্যরেখা থেকে প্রায় ১০০ মিটার ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত।
খবর পেয়ে ৬১ বিজিবির পঁয়ষট্টিবাড়ী ক্যাম্পের টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজে আপত্তি জানায়। এ সময় বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ সদস্যরা শ্রমিক ও নির্মাণসামগ্রী নিয়ে সেখান থেকে সরে যান।
পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে একই এলাকায়, শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ মিটার ভারতের অভ্যন্তরে আবারও সিমেন্টের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিজিবি পুনরায় বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা প্রথমে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বিজিবির তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
পরে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ৮৪৫ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বুড়িমারী বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার আলাউদ্দিন এবং ভারতের পক্ষে পানিশালা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ড্যান্ট ইন্সপেক্টর শচীন রায়ের নেতৃত্বে উভয় দেশের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
বৈঠকে বিজিবি জানিয়ে দেয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া ওই এলাকায় সিমেন্টের খুঁটি স্থাপনের কাজ গ্রহণযোগ্য নয়। আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে একমত হয়।
এমএইচএস/এসআর