জুলাই আন্দোলনে শহিদ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ’১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ’র দ্বিতীয় শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, স্থিরচিত্র প্রদর্শনী, বৃক্ষরোপণ, সম্মাননা প্রদান ও দোয়া মাহফিল।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলা চত্বরে জুলাই আন্দোলনের স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। পরে অতিথিরা প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে ‘জুলাই বিপ্লব থেকে নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন, শহিদ মীর মুগ্ধ’র পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহিদ সাকিব রায়হানের পিতা শেখ আজিজুর রহমান, খুবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খান ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত।
বক্তারা জুলাই আন্দোলনে শহিদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, শহিদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য দেন গণিত ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আজমল হুদা। শিক্ষার্থীদের অনুভূতি তুলে ধরেন আইন ডিসিপ্লিনের ’১৯ ব্যাচের আল শাহরিয়ার ও গণিত ডিসিপ্লিনের ’২২ ব্যাচের জাহিদুল ইসলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্মারকলিপি সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খানের কাছে তুলে দেন শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে শহিদ মীর মুগ্ধ’র স্নাতক পরীক্ষার সনদ তাঁর পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শহিদ মীর মুগ্ধ ও শহিদ সাকিব রায়হানের পরিবারকে সম্মাননা জানানো হয়। জুলাই আন্দোলনে আহতদেরও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন জামে মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম ক্বারী মুস্তাকিম বিল্লাহ। পরে জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া করা হয়।
আলোচনা সভায় সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের একটি শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়েছে। বাকস্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এ আন্দোলনের জন্ম। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন আবাসিক হল নির্মাণ সময়ের দাবি। শহিদ মীর মুগ্ধ’র নামে একটি হল নির্মাণের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, মীর মুগ্ধ’র আত্মত্যাগ নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথ উন্মুক্ত করেছে। তাঁর অবদান কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানান।
খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, মীর মুগ্ধের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে।
বিসিবি পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, তৃষ্ণার্ত মানুষের মধ্যে পানি বিতরণ করতে গিয়ে মীর মুগ্ধ শহিদ হয়েছেন। তাঁর আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও মীর মুগ্ধ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর আত্মত্যাগ মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি শহিদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি উপলক্ষে বাদ মাগরিব বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এসএমএস/এসআর