শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরই এইচএসসি পরীক্ষা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হওয়ার পর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
রুমিন ফারহানা প্রশ্ন করেন, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও কেন এইচএসসি পরীক্ষা এক বা দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার ওপর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে, তাই বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে এবং ৬৪ জেলায় একই সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়। তিনি জানান, চট্টগ্রামে বন্যার পরিস্থিতির কারণে পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, বৃষ্টির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আবহাওয়া ভালো থাকার পূর্বাভাস পাওয়ার পর বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিস্থিতি দেখে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানার পর দ্রুত কেন্দ্র পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়। মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে অন্য ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, কোথাও বড় ধরনের সমস্যা ছাড়াই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেবল কুমিল্লার ওই কেন্দ্রে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা কিছুটা দেরিতে শুরু করা হয় এবং ভুক্তভোগী এক পরীক্ষার্থীকে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন বা পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।