গত দুই দিনে খুলনার পৃথক তিনটি ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ এবং একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে স্বপ্নীল সাহা (১০) নামে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মরদেহ শুক্রবার বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। স্বপ্নীল দীপঙ্কর সাহার ছোট ছেলে এবং ধামালিয়া লিটল ফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেনের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে স্বপ্নীলের বাবা-মা ব্যবসায়িক কাজে খুলনা শহরে যান। বড় ভাইও বাজারে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বিকেলে বাড়িতে ঠাকুরমার সঙ্গে থাকা অবস্থায় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে সে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে ঝুলে পড়ে। পরে স্থানীয়রা জানালার কাচ ভেঙে তাকে উদ্ধার করে একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রঘুনাথপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর বাবর আলী জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার হাজী ফয়েজ উদ্দিন ক্রস রোড এলাকায় পাপিয়া (২৭) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা রিপনের স্ত্রী।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) অনিমেষ মন্ডল জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
এদিকে, ডুমুরিয়া উপজেলার কুলটি গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দেবরানী গাইন (৪৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি কুলটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সত্যজিৎ গাইনের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির আঙিনায় জিআই তারে ভেজা কাপড় শুকাতে দেওয়ার সময় বিদ্যুতের সংযোগ থাকা একটি তারের সংস্পর্শে এসে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এসএমএস/এসআর