ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
মালচিং পদ্ধতিতে জনপ্রিয় সবজি চাষ; বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান
✎ আবুল হাসান সোহেল
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৭ পিএম
X

“আমি ইউটিউবে প্রথম দেখি এ চাষাবাদ। পরে মাত্র এক বিঘা জমিতে শুরু করি শসা চাষ। প্রথমবারেই প্রায় দেড়শ মণ শসা বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছি আমি। অল্প সময়ে খুবই ভালো ফলন হয়। বর্তমানে ৩০ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ করছি। শসা, করলা, মরিচ, লাউ চাষ করেছি।”

এ কথাগুলো সাংবাদিকদের বলেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাদিরপুর চরকান্দি গ্রামের মো. বাচ্চু মিয়া। বাচ্চু মিয়ার এ সফলতা দেখে একই গ্রামের যুবক মানিক, পাশ্ববর্তী মুন্সি কাদিরপুর তাহের আকনের কান্দির মিজান ও মনির হোসেন মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

এভাবেই মাদারীপুর জেলার শিবচরে সবজি চাষে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মালচিং পদ্ধতি। কম খরচে এবং তুলনামূলক কম সময়ে বেশি ফলন হওয়ায় সবজি চাষিরা ঝুঁকছেন এ পদ্ধতির চাষাবাদে। গত কয়েক বছর ধরেই মালচিং পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে নানান রকম সবজি। লাভবান হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে চাষাবাদ।

শিবচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকেরা। কৃষিজমিতে মাটি সামান্য উঁচু করে বেড তৈরি করেছেন।

ওই বেড ঢেকে দিয়েছেন মালচিং পেপার (এক রকমের পলিথিন) দিয়ে। নির্দিষ্ট দূরত্বে পলিথিন ছিদ্র করে নানা জাতের সবজির বীজ বপন করছেন। এ পদ্ধতিতে চাষ করছেন শসা, মরিচ, লাউ, করলা, টমেটো, ঢেঁড়সসহ নানা শাক-সবজি।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, এ পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে মাটিতে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম থাকে। খুব একটা সেচ দিতে হয় না। তাছাড়া সনাতন পদ্ধতির চেয়ে ১০/১৫ দিন আগেই ফলন আসে। আর প্রথমবার বেড তৈরিতে একটু খরচ হয়। পরে একই বেডে ৩/৪ ধাপে চাষ করা যায়।

শিবচর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে ফলন বেড়েছে। এ পদ্ধতি মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে। আগাছা দমন করে। পোকা-মাকড় নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রথমে সার দিয়ে মাটি প্রস্তুত করে মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। পরে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে চাষ করা হয়। মরিচ, করলা এবং শসা চাষে এ পদ্ধতি ব্যাপক জনপ্রিয়। বেশি ফলন হওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরা এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে ঝুঁকছেন।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান বলেন, শিবচরের প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতি চাষাবাদে খরচ কমায়। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব মালচিং পেপারের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এ পেপার মাটির সঙ্গে মিশে গিয়ে সারের কাজ করে। পরিবেশবান্ধব মালচিং পেপারের প্রচলনও শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়া যায়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়লে শিবচরে সবজি চাষে বিপ্লব ঘটবে। এতে স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে জেলা সদরসহ আশপাশের এলাকাতেও সবজি সরবরাহের মাধ্যমে বাণিজ্যিক প্রসারতা বাড়বে।

এসআর


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝