উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। উত্তাল সাগরে লাইটার জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মাদার ভেসেল থেকে খোলা পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। এতে ভোজ্য তেল, চিনি, কয়লা, সার ও সিমেন্ট ক্লিংকারসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ৫২টি জাহাজ বহির্নোঙরে আটকা পড়েছে।
বন্দর সূত্র জানায়, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল থাকায় গত চার থেকে পাঁচ দিন ধরে স্বাভাবিক লাইটারিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে লাইটার জাহাজগুলোকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে সেগুলো আবার বহির্নোঙরে গিয়ে পণ্য খালাসে অংশ নেবে। ঝুঁকির কারণে বড় জাহাজের ক্যাপ্টেনরাও লাইটারিংয়ের অনুমতি দিচ্ছেন না।
তবে বহির্নোঙরে খোলা পণ্য খালাস ব্যাহত হলেও বন্দরের জেটি ও কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ২৩০ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং ২ হাজার ৬০৬ টিইইউএস কনটেইনার ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই-এমন কিছু পণ্যের সীমিত খালাস অব্যাহত রয়েছে। বন্দরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমেও বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ৮১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার একদিনেই ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগামী ৪৮ ঘণ্টায়ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
-টিএস