যশোরের বাঘারপাড়ায় চোরাই একটি ড্রাম ট্রাক কেটে বিক্রির অভিযোগে যুবদলের সাবেক এক নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলার অপর এক আসামি পলাতক রয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—যশোর সদর উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে জামাল হোসেন, শহরের বকচর হুশতলা এলাকার মৃত মিলন তালুকদারের ছেলে সেতু তালুকদার, সদরের কামালপুর দক্ষিণপাড়ার মৃত রজব আলীর ছেলে এনামুল হক, শহরের বকচর হুশতলা মাঠপাড়ার হাসান শিকদারের ছেলে হামজা এবং বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের তেলিধান্যপুর গ্রামের মৃত ওলিয়ার রহমানের ছেলে আলমগীর হোসেন।
মামলার পলাতক আসামিরা হলেন বকচর হুশতলা এলাকার আবু তালহা ও বদিয়ার রহমানের ছেলে জীবন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে বাঘারপাড়া উপজেলার তেলিধান্যপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ফার্মহাউসে খাজুরা পুলিশ ক্যাম্প ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও জামাল, সেতু ও এনামুলকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
অভিযানের সময় ফার্মহাউসের প্রাচীরের ভেতরে একটি ড্রাম ট্রাক কেটে টুকরো করার কাজ চলছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি হলুদ রঙের ড্রাম ট্রাকের কাটা অংশ এবং ট্রাক কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি ছোট পিকআপ জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া ট্রাকটির দরজায় ‘আয়েশা এন্টারপ্রাইজ’ লেখা ছিল।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা ট্রাকটির বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি এবং এর প্রকৃত মালিক সম্পর্কেও কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
ডিবি পুলিশের এসআই ফকির সালাউদ্দিন খান জানান, আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে হামজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে খাজুরা বাজার এলাকা থেকে বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে আটক করা হয়।
তিনি জানান, আলমগীর হোসেনকে চোরাই গাড়ির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার চারজনকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এসআই ফকির সালাউদ্দিন খান বলেন, চোরাই ড্রাম ট্রাক কেটে বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান তপন বলেন, কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় আলমগীর হোসেন বর্তমানে কোনো পদে নেই। তিনি জানান, চোরাই গাড়ি কেটে বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি চক্র আটকের পর তার নাম বলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে তিনি শুনেছেন।
এসকেআর/এসআর