খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও খুলনা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমএম মজিবর রহমানের স্থায়ী জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার খুলনার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আসাদুর জামান এ আদেশ দেন। পরে আদালত থেকে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এর আগে চলতি বছরের ১৩ মে উচ্চ আদালত থেকে তিনি আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন। ওই জামিনের মেয়াদ শেষে বুধবার নিম্ন আদালতে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার জিআরও গোপাল সাহা জানান, সোনাডাঙ্গা থানায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি হিসেবে এমএম মজিবর রহমান উচ্চ আদালতের দেওয়া আট সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি নিম্ন আদালতে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খালিশপুর থানায় দায়ের হওয়া অপর একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায়ও তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। পরে ওই মামলায় জামিন পাওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন ময়লাপোতা মোড় এলাকায় খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সন্দেহজনকভাবে অবস্থানের সময় মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে আটক করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আটককালে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে তদন্তকারী কর্মকর্তারা দাবি করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও সরকার উৎখাতের বিষয়ে কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই বিধান চন্দ্র রায় সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট এমএম মজিবর রহমান বা তার আইনজীবীর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এসএমএস/এসআর