ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রায় জনসমক্ষে উপস্থিত হয়ে নিজের মৃত্যুর গুঞ্জনের অবসান ঘটালেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। সোমবার (৭ জুলাই) রাজধানী তেহরানে আয়োজিত শোকযাত্রায় লাখো মানুষের সঙ্গে অংশ নিতে দেখা যায় তাকে।
কালো জ্যাকেট ও মুখে মাস্ক পরে শোকাহত মানুষের ভিড়ে হাঁটতে দেখা যায় আহমাদিনেজাদকে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শুরুর দিকে তার বাসভবনের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কয়েকটি রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমে তাকে নিহত বলে দাবি করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকায় তার অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়। তবে ইরান সরকার কখনোই তার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
শোকযাত্রায় অংশ নেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফসহ দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিত হননি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণেই তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।
এদিকে ইরানের জীবিত দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানিকেও শোকানুষ্ঠানে দেখা যায়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাদের রাষ্ট্রীয় এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
রোববার জানাজার নামাজে খামেনির তিন ছেলে-মোস্তাফা, মাসউদ ও মেইসাম-সামনের সারিতে অংশ নেন। বাবার মৃত্যুর পর এটিই ছিল তাদের প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত হেলিকপ্টার ভিডিওতে রাজধানী তেহরানজুড়ে মানুষের ঢল দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, জানাজা ও শোকযাত্রায় প্রায় দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষ ‘আমার শহীদ নেতা, আপনার পথচলা অব্যাহত থাকবে’ স্লোগান দেন। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিনের সঙ্গে হামলায় নিহত তার পরিবারের সদস্যদের কফিনও একই ট্রাকে বহন করা হয়।
রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শনিবার শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে। এরপর খামেনির মরদেহ তার জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে। এর আগে কোম এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় পৃথক শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
সূত্র: টেলিগ্রাফ
-টিএস