রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রে (আইভ্যাক) আবেদনকারীদের দীর্ঘ সারি ও তীব্র ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকেই শত শত মানুষ হাতে আবেদনপত্র ও পাসপোর্ট নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। তবে ভিসাকেন্দ্রের ভেতরের সেবা নিয়ে বড় কোনো অভিযোগ না থাকলেও, অনলাইনে আবেদনের নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা ‘স্লট’ পাওয়া নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্লট পেতে সাধারণ মানুষকে বড় ধরনের ভোগান্তির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার যমুনা ফিউচার পার্কের ভারতীয় ভিসা সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, নতুন আবেদন জমা দেওয়া, পাসপোর্ট সংগ্রহ এবং চিকিৎসা ও ভ্রমণের জন্য কাগজপত্র জমা দিতে আসা মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি সেবার লাইনে মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, বর্তমানে ভিসা প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ‘স্লট’ ব্যবস্থা। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভিসা ফি যেখানে মাত্র ১৫৩০ টাকা, সেখানে একটি ডাবল এন্ট্রি স্লট নিতে কালোবাজারে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। আগে অনলাইনে আবেদন করে পরদিনই কাগজপত্র জমা দেওয়া যেতো। এখনকার এই জটলা ও ভোগান্তি দূর করতে আগের সহজ নিয়মটি ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে ইচ্ছুক রোগী ও তাদের স্বজনরা এই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ভিসাকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ইনচার্জ মতিউর রহমান জানান, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ আবেদনকারীদের উপস্থিতি কিছুটা বেশি। বিশেষ করে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে।
আবেদনকারীদের সুবিধার্থে এবং বাড়তি নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা নিয়োজিত রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি এবং শান্তিপূর্ণভাবেই কার্যক্রম চলছে।
উল্লেখ্য, ভারতীয় ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা স্লট-নির্ভর হওয়ায় একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই স্লট বাণিজ্য বন্ধ করে প্রক্রিয়াটি সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত সহজ করার দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা।
এসএ