কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বন্যার পানি কমার সাথে সাথে অনেক জায়গায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। গিলে খাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও স্থায়ী স্থাপনা। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে নদ-নদী তীরবর্তী মানুষ।
গত মঙ্গলবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় উপজেলার ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও গঙ্গাধর নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। খরস্রোতা ও আঁকাবাঁকা গতিপথের এসব নদ-নদীতে এখন প্রবাহিত হচ্ছে তীব্র স্রোত, যা আঘাত হানছে তীরে। এতে দেখা দিচ্ছে ফাটল। কিছুক্ষণ পরপরই তা শব্দ করে ধসে পড়ছে। এভাবে বিলীন হয়ে যাচ্ছে তীরবর্তী মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি ও স্থায়ী স্থাপনা।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যার পর ভাঙন দেখা দিয়েছে কেদারের মণ্ডলপাড়া, কচাকাটার ধনিরামপুর, মধ্য ধনিরামপুর, বল্লভেরখাসের মাঝিপাড়া, রামদত্ত মাঝিপাড়া, ইসলামপুর, রায়গঞ্জের হাজীর মোড় বাজার এলাকা, বেরুবাড়ীর খেলারভিটা, খামার নকুলা, বামনডাঙ্গার মুড়িয়াহাট, তেলিয়ানীর কুটি, মালিয়ানীসহ অনেক এলাকায়।
স্থানীয় রশিদ মণ্ডল, জিয়াউর রহমান, শামছুল হক, জাকিউল ইসলাম, আবুল কাশেমসহ অনেকেই জানান, বন্যার ধাক্কা কিছুটা কাটতে না কাটতেই ভাঙন দেখা দেওয়ায় তারা শঙ্কিত। “এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা”—এমন মন্তব্য করেন তারা।
এদিকে বন্যার পানি প্রবেশ থেকে শুরু করে নেমে যাওয়ার গত ২–৩ দিনের মধ্যে দুধকুমার নদী ভেঙে রায়গঞ্জ রতনপুর হাজীপাড়া সংলগ্ন আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের কুটিপাড়া ও কমলারকুটি গ্রামের আব্দুল মোত্তালেব, আব্দুল খালেক, আমজাদ হোসেন, আশরাফ আলী, শহীদ মিয়া, আব্দুর রশিদ, আশরাফুল আলম, সাইফুর রহমান, রশিদুল ইসলাম, পণ্ডিত আলী, জালাল হোসেন, আব্দুল হক, চাঁদ মিয়া, সাদ্দাম আলী, খলিল, আয়নাল হক, আমজাদ উদ্দিন, মজাহার আলী, মোজ্জাম্মেল হক, কয়েদবান, আমিনা বেগমসহ অনেকের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বাগান বিলীন হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ভাঙন এতটাই তীব্র যে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার আগেই চোখের সামনেই সবকিছু নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। কিছুই আটকানো যাচ্ছে না। মুহূর্তেই তারা নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। কেউ মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রনি জানান, বন্যার পানি নামার সাথে সাথে তার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, বিষয়টি জানা গেছে। সরেজমিন পরিদর্শনের পর ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেএস/আরএন