দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর আলোচিত জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের মেট্রন সামছুন নাহার (৪৩) হত্যা মামলায় কলেজের দারোয়ান শহিদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. তসরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামিকে দুটি ধারায় ১৩ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আড়াই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আহসান হাবীব চপল।
দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম (৫৫) জয়পুরহাট শহরের পশ্চিম দেবীপুর মহল্লার ছলিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২১ নভেম্বর রাতে কলেজের ছাত্রীনিবাসের অস্থায়ী মেট্রন সামছুন নাহার নিখোঁজ হন। চার দিন পর, ২৫ নভেম্বর তাঁর ভাই ফেরদৌস আলম লুলু জয়পুরহাট সদর থানায় শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে তদন্তে পুলিশ শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ দিন পর, ৯ ডিসেম্বর ছাত্রীনিবাসের সেপটিক ট্যাংক থেকে মেট্রন সামছুন নাহারের বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মেট্রন সামছুন নাহারকে উত্ত্যক্ত করতেন এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার দিন প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে হত্যার পর গলার স্বর্ণালঙ্কার লুট করে মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত শেষে জয়পুরহাট সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম ২০১০ সালের ৫ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত আসামিকে কড়া পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান জয়পুরহাট আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক।
দীর্ঘদিন আলোচিত এ হত্যা মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে প্রায় ১৭ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি হলো।
এসআইএস/এসআর