পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বাজারঘোনা এলাকায় পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে মো. রিপন কাজী (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।
নিহত রিপন কাজী আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামের মিজানুর রহমান কাজীর ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন এবং গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (সময় আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টা) ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের চাচাত ভাই রাজিব কাজীর দাবি অনুযায়ী, সন্ধ্যায় তারা মোটরসাইকেলে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মুরচবুনিয়া ইউনিয়নের গগন খা বাজারে ঘুরতে যান। ফেরার পথে দক্ষিণ বাজারঘোনা এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাসেল কাজী, রিফাত কাজী, সোহাগ কাজী ও রাহাত কাজীর নেতৃত্বে ৮–১০ জন যুবক ধারালো অস্ত্র (রামদা, দা) ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় রাজিব কাজী দৌড়ে পাশের একটি খালে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত রিপন কাজীকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা আমেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
আমতলী উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি তারিকুল ইসলাম সোহাগ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, রিপন কাজী সংগঠনের গুলিশাখালী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ছিলেন। তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, যেহেতু নিহত ব্যক্তি আমতলী থানার বাসিন্দা, তাই আমতলী থানা পুলিশ পটুয়াখালী থানা পুলিশকে সহায়তা করছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এসকে/আরএন