ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক যুবকের নিহত হওয়ার ঘটনায় বিচার দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) নিহত সুমন শেখের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
নিহত সুমন শেখ (২০) ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দা।
এদিকে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতভর অভিযান চালিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৭ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে বুধবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, রাতে দুপক্ষের সংঘর্ষে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, বুধবার সুমন হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা -রিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় ইসমাইল মুন্সী জানান, আমরা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। সংঘর্ষের ঘটনার অন্যতম প্রধান আসামি সজীব মতুব্বরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ হাসামদিয়া গ্রামের এনায়েত সর্দারের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তবে, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সজিব মাতুব্বর দাবি করেন তার বিরুদ্ধে সুমন শেখকে গুলি করে হত্যার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, ৪/৫ মাস আগে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের ইসমাইল মুন্সির ভাগিনা এবাদুলসহ ৩/৪ জন ছেলেকে ধরে নিয়ে পৌরসভার সামনে মারধর করে হাসামদিয়া গ্রামের ফয়সাল সর্দারসহ কয়েকজন যুবক। এরপর বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায়। সেই জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে এবাদুল হাসামদিয়া ব্রিজের নিকট ঘুরতে গেলে আবারও মারধর করে হাসামদিয়া গ্রামের ফয়সাল সর্দারসহ তার লোকজন। পরে এ নিয়ে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, সড়কি নিয়ে রাতের আধারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে মহাসড়কের ওপরে সংঘর্ষে জড়ায়। এক পর্যায়ে হাসামদিয়া গ্রামের লোকজন মাইকিং করে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে দুপক্ষের মধ্যে যোগ দেয় কয়েক গ্রামের মানুষ।
এসআর