মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ৬-৩ ভোটের রায়ে আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগকে কার্যকর হতে দেয়নি।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিতভাবে বসবাসকারী অথবা কর্ম ও শিক্ষার্থী ভিসাসহ অস্থায়ী বৈধ ভিসায় থাকা অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানরা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবে না।
তবে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা রায়ে বলেন, মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। ট্রাম্প প্রশাসন এ সাংবিধানিক বিধানের যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তার পক্ষে পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি নেই।
রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ১৮৯৮ সালের ঐতিহাসিক ওং কিম আর্ক মামলার নজির উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গত ১২৮ বছর ধরে এ রায় যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির এখতিয়ারের আওতাভুক্ত প্রায় সব শিশুর জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা হিসেবে স্বীকৃত। এ অবস্থান পরিবর্তনের কোনো যৌক্তিক কারণ আদালত খুঁজে পায়নি।
সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের আদেশ কার্যকর হলে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় আড়াই লাখ শিশু নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারত। এতে অনেক শিশু কার্যত রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগটি এমন সময়ে নেওয়া হয়েছিল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ ও অবৈধ-উভয় ধরনের অভিবাসনের ক্ষেত্রেই কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে নির্বাসন অভিযান ও আশ্রয় নীতিতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
এটি চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রাম্প প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত উদ্যোগ, যা সুপ্রিম কোর্টে আইনি বাধার মুখে পড়ল। এর আগে বৈশ্বিক শুল্ক আরোপসংক্রান্ত প্রশাসনের একটি উদ্যোগও আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছিল।
-টিএস