মুদি দোকান, বিউটি পার্লার, রেস্তোরাঁসহ ১৬ ধরনের খুচরা ও সেবাখাতকে ভ্যাটভিত্তিক সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আনতে যাচ্ছে সরকার। করের আওতা সম্প্রসারণের এই উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একাংশের আশঙ্কা, অতিরিক্ত করের চাপ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। তবে অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ করা গেলে কর দিতে তাদের আপত্তি নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও মানসম্মত সরকারি সেবা নিশ্চিত করা গেলে অনানুষ্ঠানিক খাতেও কর পরিপালনের ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব।
দেশের অর্থনীতির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসা। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকান, সেলুন, বিউটি পার্লার, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাদের অনেকেই নিয়মিত কর ব্যবস্থার বাইরে রয়েছেন।
রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এসব খাতকে করের আওতায় আনতে ভ্যাটভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে ব্যবসায়ীদের একটি অংশের আশঙ্কা, এতে পরিচালন ব্যয় বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে। অন্যদিকে অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং সরকারি সেবার মান নিশ্চিত করা গেলে কর দিতে তাদের আপত্তি নেই।
নতুন করে ভ্যাটের আওতায় আনার প্রস্তাবিত ১৬টি খাতের মধ্যে রয়েছে মুদি দোকান, তৈরি পোশাক ও কাপড়ের দোকান, কনফেকশনারি, কসমেটিকসের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্যের বিক্রেতা, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার ব্যবসা, ডেকোরেটরস প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের বিক্রেতা, পেইন্ট, স্যানিটারি ও ফিটিংসের ব্যবসা, টাইলসের দোকান, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্টের ব্যবসা, ফার্নিচার বিক্রেতা, বিউটি পার্লার এবং মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও রেস্তোরাঁ।
এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, এ উদ্যোগ ক্ষুদ্র ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনবে এবং রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, করের আওতা সম্প্রসারণ সময়ের দাবি। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে সহজ, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল কর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজস্ব বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণ প্রয়োজন। তবে উদ্যোগটি সফল করতে সহজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া, স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহনীয় কর কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।
-টিএস