তীব্র ও রেকর্ডভাঙা দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফ্রান্স। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে প্রচণ্ড গরমের কারণে হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা মেতেও ফ্রান্স জানিয়েছে, দেশের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা বর্তমানে সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’-এর আওতায় রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার দেশটিতে গড় তাপমাত্রা ২৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়, যা ফ্রান্সের ইতিহাসে অন্যতম উষ্ণ দিন হিসেবে ধরা হচ্ছে। ওই দিন লান্দেস অঞ্চলের পিসোস গ্রামে তাপমাত্রা ৪৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। এর আগের রাতটিও ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম রাত, যেখানে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটানি অঞ্চলে প্রায় ৬৮ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুত সংযোগ পুনঃস্থাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লা রোশেল শহরে ভোরেই তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। প্যারিসসহ পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা সপ্তাহজুড়েই অব্যাহত থাকতে পারে।
বোর্দো শহরে টানা কয়েক দিনের রেকর্ডভাঙা গরমের মধ্যে নতুন তাপমাত্রা রেকর্ড তৈরি হয়েছে—সোমবার ৪১.৮ ডিগ্রি এবং মঙ্গলবার ৪২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ফরাসি শ্রমমন্ত্রী জঁ-পিয়েরে ফারান্দো বলেন, “আমরা এখন বাস্তবতা থেকে বুঝতে পারছি যে, দেশটি ক্রমশ উষ্ণ জলবায়ুর দিকে যাচ্ছে এবং এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া জরুরি।”
দাবদাহের প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সের পর্যটন ও জনজীবনেও। প্যারিসের লুভর জাদুঘর এবং আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষ গরমের কারণে আগেভাগে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে, তীব্র গরমে পানিতে ডুবে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গিরোন্দে এলাকায় ছয় বছরের এক শিশুসহ একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
তাপপ্রবাহের কারণে বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বেড়েছে। মেইন-এট-লোয়ার অঞ্চলের একটি বনে বড় অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনী কাজ করছে।
দাবদাহ শুধু ফ্রান্সেই সীমাবদ্ধ নেই। নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, স্পেন ও ইতালিসহ পুরো পশ্চিম ও দক্ষিণ ইউরোপে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথাও কোথাও ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে পারদ।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপ বর্তমানে বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে, যার ফলে তীব্র গরম, খরা, পানির সংকট ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়ছে। সূত্র: বিবিসি
এসআর