জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মহাদান ইউনিয়নের প্রায় ৮০ শতাংশ ভিজিএফ কার্ড স্থানীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। পরে এসব কার্ড চাল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে লাইনে দাঁড়িয়ে চাল উত্তোলনের ঘটনাও ঘটেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট ৮টি ইউনিয়নে ৩৭ হাজার ৬০৭টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব কার্ডের বিপরীতে ৩৭৬.০৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে শুধু মহাদান ইউনিয়নেই ৪ হাজার ৫৮৫টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়।
চাল হতদরিদ্র, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের মধ্যে বিতরণের কথা থাকলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, চাল বিতরণের আগে ইউপি সদস্য ও স্থানীয় নেতাদের সমন্বয়ে বৈঠক করা হয়। পরে ৪ হাজার ৫৮৫টি কার্ডের মধ্যে ৯৫০টি কার্ড প্রশাসন, ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের অনুকূলে রাখা হয়। বাকি ৩ হাজার ৬৩৫টি কার্ড ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে নেতারা বণ্টন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ দিয়ে অধিকাংশ কার্ড চলে গেছে অসাধু ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের হাতে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক স্বাক্ষরযুক্ত “ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার” লেখা কার্ডে বিভিন্ন সংগঠনের নাম ও ক্রমিক নম্বর হাতে লিখে বিতরণ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা এসব কার্ড কিনে নিজেদের লোকজনকে লাইনে দাঁড় করিয়ে একাধিকবার চাল উত্তোলন করেছেন। এতে প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হয়েছেন।
মহাদান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোহরাব হোসেন বলেন, “আমার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৭০টি কার্ড দেওয়া হয়েছিল। কে পেয়েছে তার হিসাব আমি দেখাতে পারব।”
এদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “সব ইউনিয়নেই নেতারা কার্ড বণ্টন করেছে, কীভাবে এসব হয় তা আপনারা জানেনই।”
তবে তিনি দাবি করেন, ভিজিএফ চাল বিতরণ ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব এবং এতে তার কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিল বলেন, “কার্ড কীভাবে বিতরণ হয়েছে তা নয়, প্রকৃত উপকারভোগীরা চাল পেয়েছে কি না সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেডজেড/ এসআর