রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কামাররা। কোরবানির আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় বিভিন্ন এলাকায় কামারদের দোকানে এখন শোনা যাচ্ছে ঠুংঠাং শব্দ। লোহা পিটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে কোরবানির পশু জবাইয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম, যার মধ্যে রয়েছে ছোট-বড় ছুরি, দা, বটি ও চাপাতি।
কাপ্তাই উপজেলার এক কামার স্বপন জানান, আগের মতো এখন আর তেমন অর্ডার পাওয়া যায় না। ব্যবসায় মন্দাভাব চলছে। তিনি বলেন, আগে কোরবানির সময় দা, বটি ও ছুরি তৈরির প্রচুর অর্ডার আসত। এখন অনেকেই অনলাইনে অর্ডার করে এসব জিনিস কিনে আনেন।
তবে অনলাইনে কেনা পণ্যের মান নিয়ে অভিযোগও রয়েছে বলে জানান তিনি। স্বপনের ভাষ্য, অনলাইনে কেনা অনেক দা, বটি ও ছুরির মান ভালো হয় না। কিছুদিন ব্যবহারের পর আবার সেগুলো আমাদের কাছে শান দিতে নিয়ে আসে।
আরেক কামার আরিফ জানান, সারা বছরের মধ্যে কোরবানির ঈদ ঘিরেই তাদের ব্যবসা সবচেয়ে বেশি জমে ওঠে। তিনি বলেন, আমরা প্রতি বছর কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকি। বছরে মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন ভালো ব্যবসা হয়।
তিনি আরও জানান, একটি দা বা বটি শান দিতে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, একটি ছুরি শান দিতে ৩০ টাকা এবং চাপাতি শান দিতে ৫০ থেকে ৭০ টাকা নেওয়া হয়। তবে এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অর্ডার আসেনি। ঈদের আগের কয়েকদিনে কাজের চাপ বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয় কামারদের দাবি, সরকারি সহায়তা পেলে ঐতিহ্যবাহী এই কামার শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় একসময় এই শিল্প হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
কেএইচ/আরএন