ফেনীর শর্শদিতে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে প্রবাসীর স্ত্রী রিনা আক্তারকে স্বর্ণের কানের দুলের জন্য গলা টিপে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে গ্রেপ্তারকৃত রাজমিস্ত্রী সাইফুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রাত ৯টায় ফেনী পিবিআই পুলিশ সুপার উক্য সিং তার নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, 'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সাইফুল। তিনি একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।'
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশকে জানান, ঘটনার দিন এনজিও'র কিস্তির টাকার জন্য তাকে চাপ দিয়েছিল এনজিও কর্মীরা। টাকার জন্য তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। সে দিন বিকেলে রিনা আক্তারের নির্মাণাধীন ঘরে তিনি রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে যান। ওই সময় রিনা আক্তার ঘরের কাজ দেখাশোনা করছিলেন। তখন তার কানে স্বর্ণের দুল দেখে সাইফুলের ভেতর লোভ দেখা দেয়। দুল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় রিনা আক্তার বাঁধা দিলে শুরু হয় দু'জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি। একপর্যায়ে গলা টিপে ধরলে দম বন্ধ হয়ে মারা যান রিনা আক্তার। পরে ঘরের মধ্যে বালি খুড়ে গর্ত করে লাশ পুঁতে রেখে আত্মগোপনে যান সাইফুল।
সাইফুল পুলিশকে জানিয়েছে, হত্যা করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। কানের দুল ছিনিয়ে নিতে গলা চেপে ধরলে মারা যান ওই গৃহিণী।
প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্য মতে, ফেনীর মোহাম্মদ আলী বাজারের একটা দোকান থেকে ছিনিয়ে নেওয়া এক আনা ওজনের কানের দুল উদ্ধার করে পিবিআই।
ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের চোছনা গ্রামে নির্মাণাধীন ভবনের কক্ষে গত মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে গৃহিণী রিনা আক্তারকে হত্যা করে লাশ বালিতে পুঁতে রেখেছিল রাজমিস্ত্রী সাইফুল ইসলাম। ওইদিন রাতে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ।
এটি/এমএ