খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চরমলই গ্রামের আলোচিত নেছার আলী মোড়ল হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আাসমিরা হলেন, সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার সাহাজাতপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজোয়ন বিশ্বাসের ছেলে শহিদুল ও পাইকগাছা উপজেলার মনোসা বিশ্বাসের ছেলে সাধন হাওলাদার।
বুধাবার খুলনার বিভাগীয় দ্রুত বিচার (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মো: মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেন।
এজাহারের বরাত দিয়ে আদালতের বেঞ্চ সহকারী (উচ্চমান সহকারী) মো. মাজাহারুল ইসলাম জানান, ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি সকালে উপজেলার চরমলই গ্রামের বাসিন্দা নেছার আলী মোড়ল হলুদ বিক্রির উদ্দেশ্যে কপিলমুনি বাজারে যান। হলুদ বিক্রি শেষে তিনি হিতামপুর গ্রামের সম্মিরন সাধু ও সন্তোষ কুমারের ইটভাটার উত্তর-পশ্চিম কোণে পৌঁছালে শহিদুল ও ভোলাসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তার সঙ্গে কথা বলার জন্য ওয়বদা বেড়িবাঁধের দিকে এগিয়ে আসে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা নেছার আলী মোড়লের কানের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। পরে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে কৌশলে তাকে উদ্ধার করার নাটক করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ঘটনার দিন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২)। এজাহারে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার কয়েকদিন আগে পাওনা টাকা আনতে নেছার আলী মোড়ল উপজেলার হিতামপুর গ্রামের কেনারাম বিশ্বাসের বাড়িতে যান।
সেখানে গিয়ে তিনি কেনারাম বিশ্বাসের মেয়ে রত্না বিশ্বাস ওরফে আদুরীকে আসামি শহিদুলের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় নেছার আলী মোড়ল শহিদুলকে গালমন্দ করলে বিষয়টি তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
এরপর থেকেই তাদের মধ্যে শত্রুতার সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরে শহিদুল, তার সহযোগী ভোলা এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন মিলে নেছার আলী মোড়লকে হত্যা করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পাইকগাছা থানার এসআই নাসির উদ্দিন ২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল শহিদুল ও ভোলাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এসএমএস/এসআর