ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য: মুন্সীগঞ্জে রাতের আঁধারে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩২ পিএম
X

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দেরচর এলাকায় রাতের আঁধারে অবাধে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে গর্ত তৈরি করে এসব মাটি তুলে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং স্থানীয় কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাতের বেলায় মাটি কাটার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মাটি ব্যবসায়ী চক্র জমির মালিকদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কম দামে মাটি কিনে নিচ্ছে এবং পরে তা বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে চক্রটি লাভবান হলেও স্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়ছে কৃষিজমি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও চান্দেরচর মৌজার ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। অভিযোগে দুই ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে—ইসরাফিল ও কালাইচান মাতবর। প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলে এই মাটি কাটার কার্যক্রম।

এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্তদের প্রভাব এতটাই বেশি যে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই বাড়িঘরে হামলার আশঙ্কা থাকে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। কালাইচান মাতবর বলেন, “আমি মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত নই; ইসরাফিল কাটে।” অন্যদিকে ইসরাফিল দাবি করেন, “আমি এ কাজে জড়িত নই; অন্যরা মাটি কাটছে।”

বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলেকচান সজিব বলেন, “আমি বারবার বাধা দিয়েছি, কিন্তু মাটি কাটা বন্ধ করতে পারছি না। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এটি সম্ভব নয়।”

ইউপি চেয়ারম্যান মো. আওলাদ হোসেন বলেন, “মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের একাধিকবার নিষেধ করেছি। বর্তমানে তারা কাটছে কিনা জানা নেই। প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে আমরা সহযোগিতা করব।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, “ফসলি জমির মাটি কাটা হলে জমির উর্বরতা কমে যায় এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিনথিয়া হোসেন বলেন, “আমি সদ্য এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এনইউ/আরএন


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝