চৈত্র সংক্রান্তিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণিল ঘুড়ি উৎসব। বাংলা বর্ষপঞ্জির শেষ দিনে উৎসবে মেতে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ শহরবাসীও।
সোমবার বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ঘুড়ি উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম।
উদ্বোধনকালে উপাচার্য বলেন, চৈত্র সংক্রান্তিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘুড়ি উৎসব একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
তিনি বলেন, এ ধরনের উৎসব শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এর মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হয়। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন সাংস্কৃতিক আয়োজন জ্ঞানচর্চার পরিমণ্ডলকে আরও সমৃদ্ধ করে।
ঘুড়ি উৎসবে স্বপরিবারে অংশ নেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. শামীম হোসাইন। তিনি বলেন, ঘুড়ি উৎসবের মতো আরও দেশীয় সংস্কৃতি আমাদের ধরে রাখা উচিত। এতে শিশুদের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতিবোধ তৈরি হবে। সেই জায়গা থেকে নিঃসন্দেহে এটি একটি প্রশংসনীয় আয়োজন। আমি আমার মেয়েকে নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি, সবাই মিলে উৎসবটি দারুণ উপভোগ করছি।
উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। আকাশজুড়ে উড়তে দেখা যায় নানা রঙ ও বিভিন্ন আকৃতির ঘুড়ি। প্রজাপতি, সাপ, চিল, ঈগল ও মাছ আকৃতির ঘুড়িগুলো ছিল বিশেষ আকর্ষণ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এ আয়োজন চৈত্র সংক্রান্তির ঐতিহ্যকে ধারণ করে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
আল্পনা উৎসব
এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে গত রোববার ‘আল্পনা উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম।
উৎসবে শিক্ষার্থীরা নিজস্ব সৃজনশীলতা দিয়ে বিভিন্ন রঙ ও নকশায় হাদী চত্বরজুড়ে আল্পনা অঙ্কন করে ক্যাম্পাসে এক মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করে। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পচর্চা উপস্থিত সবার মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহের জন্ম দেয়।
তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ দিনে আগামীকাল ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সকাল ৯টায় মেলার উদ্বোধন করা হবে। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠ থেকে বের হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এছাড়া বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী মেলায় বিভিন্ন আয়োজন থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে খুলনার সবচেয়ে বড় মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
এসএস/আরএন