কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দরবারের প্রধান কালান্দার বাবা শামীম জাহাঙ্গীরের (৫২) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতে পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের ফিলিপনগর পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিসরে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দাফনকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বিজিবি মোতায়েন করা হয় এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
দাফনে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরা অংশ নিলেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।
রোববার বেলা ১১টার দিকে খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার) এবং পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাগৃণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শনিবার রাতে দৌলতপুরের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে লক্ষ্যে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান। শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান পটস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার কোরআন নিয়ে একটি বিতর্কিত বক্তব্যকে ঘিরে কথিতপীর বাবা শামীম জাহাঙ্গীরকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। দুপুরে বিক্ষুব্ধ জনতা তার দরবারে হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এ সময় তার উপর হামলা হলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। এসময় পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় কথিত পীরের আরও কয়েকজন অনুসারী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন মামলার খবর পাওয়া যায়নি।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আরিফুর রহমান জানান, রোববার রাতে এ ব্যাপারে থানায়
মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এসআই/এসআর