পঞ্চগড়ে জমি ক্রয়ে জেলা প্রশাসকের অনুমতির আদেশ জালিয়াতি করে ৪৫ বিঘা জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে করতোয়া সোলার লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে।
তেঁতুলিয়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসের তথ্যানুযায়ী, তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো:জহুরুল ইসলাম ২০ মে ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত জমি ক্রয়ের পূর্বানুমতির আদেশ দেখিয়ে, ১১ জুলাই করতোয়া সোলার লিমিটেড তেঁতুলিয়া উপজেলার ময়নাগুড়ি এলাকার শেখগছ মৌজায় ৪৫ বিঘা জমি রেজিস্ট্রি সম্পাদন করেন। জমির নতুন দলিল নং-১২৫৩। আদেশে অনুলিপি দেওয়া ছিল, তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সহকারী কমিশনারকে (ভূমি)। তবে তেঁতুলিয়া নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এ ধরনের কোন চিঠি নাই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা থেকে ২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারিতে অকৃষি, অনাবাদি, পতিত জমি ব্যতীত আবাদী বা ফসলি জমি ক্রয় করা যাবে না এবং এক বছরের মধ্যে জমি ক্রয় সম্পাদন করার শর্তে অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসক। নিয়ম অনুযায়ী কোন কোম্পানি জমি ক্রয় করতে হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের অনুমতির আদেশ বাধ্যতামূলক। কিন্তু করতোয়া সোলার লিমিটেড ২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারিতে নেওয়া জেলা প্রশাসকের অনুমতিপত্র, স্ক্যানিং করে দুই ফসলি, তিন ফসলি জমি ২০২৪ সালে এসব জমি রেজিস্ট্রির কাজ সম্পাদন করে।
জমি বিক্রেতা মনোয়ার হোসেন দিপু বলেন, চার কোটি ৬০ লাখ টাকা জমির মূল্য নির্ধারন করা হয়। কিন্তু পরে দুই কোটি টাকা দিয়েই করতোয়া সোলার লিমিটেড জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে। কম টাকায় রেজিস্ট্রি করে দিতে না চাইলে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি থানায় অভিযোগও করা হয়েছিল। দলিলে মূল্য দেখানো হয়েছে এক কোটি ১৪ লাখ টাকা।
দলিল সম্পাদনকারী লেখক আনিছুর রহমান বলেন, কোম্পানি যেভাবে কাগজ দিয়েছে, আমরা সেভাবে রেজিস্ট্রারকে উপস্থাপন করেছি।
করতোয়া সোলার লিমিটেডের প্রশাসক সুজা মিয়া ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, জমি ক্রয়ের অনুমতিপত্রটি আগের। জমি কম দেওয়ার কারণে টাকাও কম দেওয়া হয়েছে বিক্রেতাকে।
জেলা প্রশাসক মোসা: শুকরিয়া পারভীন বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দেন তিনি।
এসআইএস/এসআর