বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি উপজেলা রুমায় দিন দিন বাড়ছে বিকল্প কৃষি উদ্যোগ। এরই ধারাবাহিকতায় মাশরুম চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন তরুণ উদ্যোক্তা অংসিংথোয়াই মারমা। তিনি ১নং পাইন্দু ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ক্যতেংন পাড়ার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে রুমা সদর ইউনিয়নের থানাপাড়ায় বসেই মাশরুম চাষের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন।
অংসিংথোয়াই মারমা জানান, বান্দরবানে অবস্থানরত তাঁর ভগ্নিপতির কাছ থেকে মাশরুম চাষের প্রাথমিক ধারণা ও কৌশল শিখে তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ভগ্নিপতির কাছ থেকেই তিনি ‘মাদার স্পন’ (মাশরুমের বীজ) সংগ্রহ করেন, যার মাধ্যমে তাঁর চাষ কার্যক্রম শুরু হয়।
মাশরুম চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথম ধাপে কাঠের গুঁড়া ও ধানের তুষ মিশিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা সিদ্ধ করা হয়। এরপর এতে চুন মিশিয়ে এক সপ্তাহ ভিজিয়ে রাখা হয়। পরে এই মিশ্রণ পলিব্যাগ (পিপি) ভরে সিলিন্ডার আকৃতিতে তৈরি করে মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে রাখা হয়, যাতে ভেতরে বাতাস প্রবেশ করতে না পারে।
দ্বিতীয় ধাপে ওই ব্যাগগুলোতে মাদার স্পন প্রয়োগ করে প্রায় এক মাস ঠান্ডা ও শীতল পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয়। এ সময় প্রতিদিন তিনবার পানি স্প্রে করতে হয়। এক মাস পর ব্যাগের ভেতরে মাইসেলিয়াম তৈরি হয়ে ধীরে ধীরে মাশরুম উৎপাদন শুরু হয়।
রুমা বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সুমন বড়ুয়া বলেন, মাশরুমের চাহিদা এখানে অনেক বেশি। এটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় ক্রেতারা নিয়মিত খোঁজ করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় আমরা অনেক সময় তা দিতে পারি না।
উদ্যোক্তা অংসিংথোয়াই মারমা জানান, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে তিনি এ উদ্যোগ শুরু করেন। কাঠের গুঁড়ার প্রতি বস্তার দাম প্রায় ৪০ টাকা, এর সঙ্গে পরিবহন খরচও রয়েছে। প্রতিটি পলিব্যাগ প্রস্তুতে আনুমানিক ৬০০ টাকা খরচ হয় এবং প্রতি ব্যাচে প্রায় ৩০০টি পিপি ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। উৎপাদিত মাশরুম তিনি রুমা বাজারে পাইকারি দামে প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি করেন। অল্প সময় ও সীমিত বাজেটে পরিশ্রমের মাধ্যমে ভালো কিছু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রুমা উপজেলায় পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই মাশরুম খেতে পছন্দ করেন। চাহিদা অনেক বেশি, কিন্তু উৎপাদন কম হওয়ায় সব সময় সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। “আমি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই কাজ শুরু করেছি। যদি প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহযোগিতা পাই, তাহলে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারব।”
তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা পেলে তাঁর মতো আরও অনেক তরুণ এই দুর্গম পাহাড়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন।
স্থানীয়দের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সহায়তা পেলে মাশরুম চাষ রুমা উপজেলার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য একটি সম্ভাবনাময় আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে এবং বেকারত্ব নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
ইউএম/আরএন