খুলনার উপকূলীয় অঞ্চল কয়রা উপজেলার কৃষকরা তরমুজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ বীজতলা প্রস্তুত করছেন, কেউ চারা রোপণ করছেন, আবার কেউ পানি দেওয়ার কাজে ব্যস্ত। তাদের দম ফেলার সময়ও নেই। তবে সার, কীটনাশক এবং সোরবেকের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে তারা চিন্তিত। গত বছরের তরমুজ চাষে ক্ষতির কারণে এবার আবাদ কম হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, “গত বছরের ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারলে এবার ভালো ফলন আশা করছি।”
তরমুজ মৌসুমে ক্ষেতগুলোতে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ মেলে, যা তাদের আনন্দের কারণ।
কয়রা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর ২৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। ক্ষেতগুলোতে হাইব্রিড এবং উচ্চফলনশীল উফশি জাতের তরমুজের আবাদ করা হয়েছে।
চটকাতলা বিলের কৃষক সুজন বলেন, “আমি ৮ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করছি। কিন্তু উপ-সহকারী কৃষি অফিসার এখনো আমাদের বিলে আসেননি। অফিসার যদি পরামর্শ দিতেন, তাহলে ফলন আরও ভালো হতো।”
চন্ডিপুর বিলে কৃষক মিঠুন সরকার বলেন, “আমি ১২ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করছি। চারা বের হয়েছে, এখন পরিচর্যা করছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে বাম্পার ফলন হবে।”
অপর কৃষক অপূর্ব সানা বলেন, “আমি লিজে ৮ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করছি। বিঘাপ্রতি খরচ হবে ৩০–৩৫ হাজার টাকা। ফলন বাম্পার হলে বিঘাপ্রতি লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারবো।”
চন্ডিপুর বিলের কৃষক লিংকন বলেন, “আমি আমার নিজস্ব ৩ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করছি। চারা বের হয়েছে, এখন পরিচর্যা করছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে।”
চটকাতলা বিলের কৃষক সেলিম হোসেন বলেন, “আমি হারি জমিতে ৩০ বিঘা তরমুজ লাগাচ্ছি। গতবার লাভবান হয়েছিলাম। বিঘাপ্রতি খরচ ৩০ হাজার টাকা, এবং ফলন ভালো হলে বিঘাপ্রতি লক্ষ টাকা বিক্রি করা সম্ভব।”
কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলোক কুমার ঘোষ বলেন, “তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। আবহাওয়া যদি শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকে, তাহলে এবছর বাম্পার ফলন হবে।” তিনি আরও বলেন, “উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা রাতদিন পরিশ্রম করে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন এবং সবসময় তাদের পাশে আছেন।”
এসএস/আরএন