সুনামগঞ্জের তাহিরপুরবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান কবে হবে তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উপজেলার যাদুকাটা ও পাটলাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন দুটি সেতুর কাজ দীর্ঘ ৮ বছরেও শেষ না হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। প্রায় ১২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পগুলো এখন স্থবির হয়ে পড়েছে।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যাদুকাটা নদীর ওপর ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের শাহ আরেফিন অদ্বৈত মৈত্রী সেতু এবং পাটলাই নদীর ওপর ৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের আরেকটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। তমা কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ৩০ মাসের মধ্যে অর্থাৎ ২০২১ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমানে ২০২৬ সালেও সেতুর কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ এলজিআরডি সূত্রে জানা গেছে, যাদুকাটা সেতুর জন্য বরাদ্দকৃত ৮৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ৬৮ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, পাটলাই সেতুর ৪৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা বিল উত্তোলন করা হয়েছে। বিশাল অঙ্কের টাকা উত্তোলন করা হলেও কাজের বাস্তব চিত্র হতাশাজনক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যাদুকাটা সেতুর দুই পাশের কাজ শেষ হলেও মাঝখানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনো বাকি। অন্যদিকে, পাটলাই সেতুর মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট না থাকায় এটি জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী নয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, সামান্য উদ্যোগ নিলেই সেতুগুলো চলাচলের উপযোগী করা যেত; কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
এই পরিস্থিতিতে সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে অসমাপ্ত কাজের নতুন প্রাক্কলন তৈরি করে প্রকল্প কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। নতুন প্রক্রিয়া শুরু হলে দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সুনামগঞ্জ এক আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেয়েছেন। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আর কতদিন তাদের এই ভোগান্তি সহ্য করতে হবে এবং কবে নাগাদ এই সেতুগুলো চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে।
এএস/আরএন