ঈদ সামনে এলেই ব্যস্ত হয়ে ওঠে সেমাই কারখানাগুলো। কিন্তু সেই ব্যস্ততার আড়ালে যদি লুকিয়ে থাকে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি, তবে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। পচা ডিম, পশুর চর্বি (অ্যানিমেল ফ্যাট), কৃত্রিম ঘি, নিম্নমানের পাম অয়েল ও ডালডা ব্যবহার করে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে উৎপাদন চলছে পুরোদমে। অভিযোগ উঠেছে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব লাচ্ছা সেমাই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর অনুমোদন ছাড়াই বাজারজাত করা হচ্ছে।
জামালপুরের মেলান্দহ ও ইসলামপুর উপজেলার সংলগ্ন বীর হাতিজা মোড় এলাকায় ‘থিতি মনি ফুড বেকারী’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করছেন সোহেলী শেখের পুত্র বাবুল মিয়া। তিনি দাম্ভিকতার সঙ্গে বলেন, “১১ বছর ধরে এভাবেই ব্যবসা করছি। কোনো সমস্যা নেই, সব জায়গায় ম্যানেজ করেই চলি।”
স্থানীয়রা জানান, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই এসব সেমাই খোলা অবস্থায় ও পলিপ্যাকেটে বাজারজাত করা হচ্ছে। মানুষের খাওয়ার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এসব লাচ্ছা সেমাই শহরের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় হাটবাজার ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে অবাধে সরবরাহ করা হচ্ছে। ভেজালবিরোধী অভিযান শিথিল হয়ে পড়ায় অধিক মুনাফার আশায় এসব লাচ্ছা সেমাই তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে অনুপযোগী নিম্নমানের ময়দা, পামতেল ও পোড়া তেল।
নিয়ম অনুযায়ী সেমাই তৈরির কারখানায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মানসম্মত কাঁচামাল এবং শ্রমিকদের অ্যাপ্রোন, হেডকভার ও গ্লাভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক। অথচ অধিকাংশ কারখানায় এসবের বালাই নেই। ঘামভেজা শরীরেই শ্রমিকরা কাজ করছেন।
ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএএম আবু তাহের বলেন, “অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার খেলে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, খাদ্যবিষক্রিয়া, এমনকি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।”
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরির বিষয়ে মেলান্দহ স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রাবেয়া বেগম বলেন, “অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের তেল ব্যবহার করে সেমাই তৈরি হচ্ছে—এটি আমি জানি। তাঁকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছে। তবে তাঁর কোনো অনুমোদিত লাইসেন্স নেই।”
সচেতন মহলের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যে ভেজাল রোধে কঠোর তদারকি জরুরি। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। পণ্য কেনার আগে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, অনুমোদনের সিল, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করা প্রয়োজন। উৎসবের আনন্দ যেন ভেজালের কারণে বিষাদে পরিণত না হয়—এটাই সবার প্রত্যাশা।
এলএইচ/আরএন