ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় আগাম জাতের তরমুজ চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষক ফকিস প্যাদা। স্থানীয়দের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে প্রায় ৬০০ শতাংশ জমিতে সুপার গ্রেড-১ জাতের তরমুজ চাষ করে তিনি এখন মূলধন ফেরত পাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।
জানা গেছে, নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়ন–এর ভেরনবাড়িয়া গ্রামে বিষখালী নদী–এর তীরবর্তী জমিতে এ চাষ করা হয়। তবে আশানুরূপ ফলন না পাওয়ায় কয়েক লাখ টাকা লোকসানের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে অর্ধেক ক্ষেতের তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষক।
ফকিস প্যাদা বলেন, “জমি লিজ, চারা, শ্রমিকসহ সব খরচ মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু ক্ষেতে আশানুরূপ ফলন নেই। এমন অবস্থায় আমার খরচের টাকাও উঠবে না। কয়েক দিন আগে ১০ জন শ্রমিক ছিল, ফলন কম হওয়ায় পাঁচজনকে ছাঁটাই করতে হয়েছে। এক চালান তরমুজ বিক্রি করে মাত্র ৩০ হাজার টাকা পেয়েছি।”
তিনি আরও জানান, তরমুজের ফল ঝরে পড়ার কারণ জানতে কৃষিবিদদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা ক্ষতিকর ভাইরাসের সংক্রমণের কথা বলেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সজল মোল্লা বলেন, “এ এলাকায় প্রথম এত বড় পরিসরে তরমুজ চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হলে অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হতেন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ও রমজান সামনে রেখে তরমুজের ভালো চাহিদা থাকে, যা আগাম তরমুজ দিয়ে পূরণ করা যায়।”
এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস–এর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সুপার গ্রেড-১ একটি উচ্চ ফলনশীল আগাম জাত। পটুয়াখালী, ভোলা ও বরগুনায় এ জাত ভালো ফলন দেয়। নলছিটিতেও চাষ হচ্ছে, তবে ভালো ফলনের জন্য আরও নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন। আমরা কৃষক ফকিস প্যাদার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি দেখব।”
এসআই/এসআর