স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় পৃথক গ্যাস লিকেজ দুর্ঘটনায় দগ্ধদের অধিকাংশই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে অন্তত সাতজন রোগী উচ্চঝুঁকিতে রয়েছেন। তাদের অনেকের শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হয়েছে এবং ইনহেলেশন ইনজুরির কারণে শ্বাসনালিতে জটিলতা দেখা দিয়েছে, যা চিকিৎসাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, বারবার গ্যাস লিকেজজনিত দুর্ঘটনা ঘটায় গ্যাস লাইন ও সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর কঠোর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় কড়াকড়ি আরোপ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, দগ্ধ রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সদের সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, চট্টগ্রামের ঘটনায় দগ্ধদের উদ্ধার করে ঢাকায় আনার পথে একজন মারা যান। আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ বছর বয়সী সাহাস নামে আরও এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সাতজন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
তিনি বলেন, আমি নিজে রোগীদের দেখে এসেছি। তিনজনের শরীরের ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বার্ন ছিল, তাদের একজন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। বাকিদের মধ্যে অধিকাংশের ৬০ শতাংশের বেশি বার্ন রয়েছে। অনেকে আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে আছেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দগ্ধদের সবারই ইনহেলেশন ইনজুরি রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কুমিল্লার দাউদকান্দিতেও একই ধরনের দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর শরীরের ৫০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে। তারাও ইনহেলেশন ইনজুরিতে ভুগছেন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘনঘন গ্যাস লিকেজের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের দেশে সারা বছরই কোথাও না কোথাও গ্যাস লিকেজ থেকে দুর্ঘটনা ঘটে। এটা আর চলতে পারে না। মানবসম্পদ রক্ষার স্বার্থে আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই একটি সমন্বিত বৈঠকে বসবে। সেখানে গ্যাস লাইনের সিলিন্ডার সিস্টেম, সরবরাহ লাইনের ত্রুটি এবং লিকেজ নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, কীভাবে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা যায়, কীভাবে নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে আমরা আর বিলম্ব করব না।
বার্ন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই হাসপাতাল প্রস্তুতি নেয়। অতিরিক্ত চিকিৎসক ও নার্স মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন সবার শরীরের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ বার্ন রয়েছে। কয়েকজনের ৮০ শতাংশের বেশি এবং কারও ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত বেড ও ওষুধ রয়েছে। যদি অতিরিক্ত কিছু প্রয়োজন হয়, সরকার তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবে।
তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এবং দেশবাসীর কাছে দগ্ধদের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন।
এসআর