দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চারটি গভীর নলকূপ থেকে বৈধ ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত অপারেটরদের বের করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চলমান বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী অপারেটররা হলেন- কে এম মাহফুজুর রহমান, মো. মেহেদী হাসান, মুক্তাদির হাসান ও মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।
তারা জানান, সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর আগে তারা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-এর অধীনে অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর থেকে নিয়মিত ভাবে কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সেচ সেবা দিয়ে আসছেন।
তাদের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে ও সন্ধ্যায় শিবনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল আলম তার সহযোগী সৌরভ হোসেন সাগর, আব্দুল মমিন সোনা, নজরুল কবির রিপন, মোহাম্মদ ইউনুস ও রেজাউল সরকারকে সঙ্গে নিয়ে সেচ ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় অপারেটরদের লাগানো তালা ভেঙে লাইনম্যানের ব্যবহৃত সরঞ্জাম বাইরে ফেলে দেওয়া হয় এবং সেচ ঘরে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
অপারেটররা দাবি করেন, তারা কোনো ধরনের ঝগড়া-বিবাদে জড়াননি। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বিএমডিএ’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়। বর্তমানে সেচ পাম্পের মিটারে তাদের জমাকৃত অর্থ রয়েছে এবং তারা বৈধ ভাবে পাম্প পরিচালনা করে আসছিলেন।
তারা আরও অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ভাবে এসব গভীর নলকূপ থেকে অর্থ উত্তোলন করে আসছেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর আবারও একই ভাবে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, চলমান বোরো মৌসুমে এ ধরনের জটিলতায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামিম ইসলাম বলেন, 'বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমাদের নিয়োগকৃত বৈধ অপারেটর ও লাইনম্যানকে গভীর নলকূপ ঘর থেকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে- এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও আইনবিরোধী। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আশরাফুলের মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি কথা বলবেন না বলে জানিয়ে দেন।
এইচআর/এমএ