নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে লাগা আগুনে ১৮ পরিবারের বসতঘর পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও আসবাবপত্রসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় নুরুল আলমের বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ১৮টি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বসতঘর ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তরা প্রাণ নিয়ে বের হতে পারলেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করতে পারেননি। আগুন দ্রুত জুম্মান মিয়া, নুরুল আলম ও মাহিজ উদ্দিনের বাড়িতেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১৮টি পরিবারের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
ক্ষতিগ্রস্ত নুরুল আলম জানান, এলাকা শিল্পাঞ্চল হওয়ায় তাদের বাড়ির ১০টি কক্ষে ১০টি পরিবার ভাড়া থাকত। আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই সবকিছু পুড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা কোনোমতে প্রাণ নিয়ে বের হতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. জাহেদ চৌধুরী জানান, অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বাড়ির মোট ১৮টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।
তিনি শুক্রবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি পরিদর্শন করেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম (বিডিআর)সহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
পরিদর্শনকালে এমপি মান্নান বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর এই দুর্দিনে আমি তাদের পাশে আছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যেন অসহায় অবস্থায় না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা বলেছি।
এমএইচ/আরএন