ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
দৌলতদিয়ায় মহাসড়কের পাশে বালুর চাতাল, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:২০ পিএম আপডেট: ১৭.০২.২০২৬ ৩:২২ পিএম
X

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সাত্তার মেম্বার পাড়ায় বালুর চাতালের কারণে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে প্রায় ১৮ থেকে ২০টি পরিবারের শতাধিক মানুষ। বসতবাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে চলাচলের রাস্তাঘাট, এমনকি টয়লেট ও রান্নাঘর পর্যন্ত পানিতে ডুবে আছে। এছাড়া মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ এসব বালুর চাতাল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গোয়ালন্দ উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সরোয়ার হোসেন মোল্লা এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক উপজেলা সভাপতি জগোদিশ সরকারের মালিকানাধীন বালুর চাতাল থেকে পানি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে বর্ষার শুরুতেই এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

বাইপাস সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালুর ব্যবসা জমজমাটভাবে চলছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা মহাসড়কের পাশে বালুর চাতাল তৈরি করে অবৈধ বালুর ব্যবসা করছেন। ফলে ফেরিতে উঠা ও নামায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পদ্মা নদী থেকে বালু বাল্কহেডে ভর্তি করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মহাসড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এসব চাতাল থেকে বালু নেওয়ার জন্য প্রতিদিন শত শত ড্রাম ট্রাক ব্যবহৃত হচ্ছে। ড্রাম ট্রাকের চাকায় সড়ক ও জনপদ বিভগের কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি ড্রেন ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। ফলে বৃষ্টির পানি সড়ক থেকে ড্রেন দিয়ে নদীতে বের করার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে বিআইডব্লিউটিএ সূত্র থেকে জানা যায়, এ সমস্ত বালুর চাতাল স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হয়। এগুলোর কোনো জমিই লীজ নেওয়া হয়নি। 

স্থানীয় এক ভুক্তভোগী বলেন, আগে চাতাল চালাতো নুরু চেয়ারম্যান তখন পানি আসতো না। তারা সেচের ব্যবস্থা করতো। পরবর্তী সময়ে সেই চাতাল চলে যায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক উপজেলা সভাপতি জগোদিশ সরকারের হাতে। তারপর থেকে পানি আসলে আর যাচ্ছে না। এই পানি বাড়ির চুলোয় উঠে যাচ্ছে তাছাড়া সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়। বাচ্চারা কখন পানিতে পড়ে যায়। 

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন ব্যক্তিদের চাতাল হওয়ায় সরাসরি প্রতিবাদ করার সাহস পান না অনেকেই। দিনের পর দিন পানিবন্দি অবস্থায় থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে নাভিঃশ্বাস।

শ্রমিক দলের সভাপতি সরোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, “আমার চাতালে মাঝে মাঝে বালু রাখা হয়। সেখান থেকে পানি জমে না।  বা সেখান থেকে পানি ওই সমস্ত বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং জগোদিশ সরকার প্রতিদিন ৫-৭টি বলগেট বালু নামায়। তার চাতালের পানিতেই এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।'

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, 'ঘাটের এই সমস্ত জায়গা বিআইডব্লিউটিএ এর কাছ থেকে লীজ এনে তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ আমাদের সাথে কথা বলে লীজ দেয়না। তারপরও জনস্বার্থে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আরিচা অঞ্চল সুব্রত রায় বলেন, 'নদীর পাশে কোনো অবস্থায় বালুর চাতাল করা যাবে না। এবং আমরা কোনো রকম অনুমতি দেইনি। গত বছর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের সাথে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। এবার খুব শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আমি গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে কথা বলবো।'

এসআই/এমএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝