রাজশাহীর বাঘায় ১৭ বছর পর ৭৫ বছর বয়সে লাঠিতে ভর করে ছেলের সহায়তায় এসে ভোট দিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বয়েজুল ইসলাম খান। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাঘা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছাতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসে তিনি ভোট দেন।
বয়েজুল ইসলাম খান ছাতারী গ্রামের বাসিন্দা। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে এবং নয়টি নাতী-নাতনী রয়েছে। তিনি দুই বার নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে শারীরিক ভাবে অসুস্থ।
ছাতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার বাবুল ইসলাম বলেন, 'বয়েজ চাচার মতো আর কোনো ব্যক্তি এ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেননি। তবে বয়েজ চাচার মতো বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ২৭। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৬ এবং নারী ১ হাজার ২১।'
তিনি বলেন, 'এ আসনে মোট কেন্দ্র ১১৯টি। এর মধ্যে বাঘায় ৬১টি এবং চারঘাটে ৫৮টি। এর মধ্যে ছাতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহৃত করা হয়েছে। এটিসহ ৪২টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এর মধ্যে বাঘায় ২৪টি এবং চারঘাটে ১৮টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৯ জন। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬৬ এবং পুরুষ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯১১।'
বয়েজুল ইসলাম খানের মেঝো ছেলে ফারুক হোসেন খান বলেন, 'দীর্ঘ ১৭ বছর ভোট দিতে পারেননি বাবা। আমার বাবা একজন রাজনৈতিক নেতা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। ভোটের কথা শুনে বাবা ঘরে বসে থাকতে পারেননি। বাবা আমাকে বার বার বোঝাতে চাচ্ছিলেন ভোট দিতে আসবেন। অবশেষে আমি ও আমার ছোট ভাই মিনহাজুল ইসলাম খান একটি ভ্যানে করে নিয়ে এসেছি।'
বয়েজুল ইসলাম খানের ছোট ছেলে মিনহাজুল ইসলাম খান বলেন, 'আগে কেন্দ্রে গেলে শুনতাম আমার ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছে। নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বপ্নটা পূর্ণ হলো। ১৭ বছর পর এবার কোনো বাধা ছাড়াই নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছি। বাবাকে ভোট দেওয়ানো হয়েছে। দীর্ঘদিন পর নিজের হাতে ব্যালট পেপারে সিল মারলাম।'
তরুণ ভোটার সাব্বির হোসেন বলেন, 'আমি পারিবারিক ভাবে শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত। সুষ্ঠু পরিবেশে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে।'
ছাতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার রকি হোসেন বলেন, 'এ কেন্দ্রে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভালো ভাবে ভোট গ্রহণ হয়। আমার সাথে আনসার সঙ্গে সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।'
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, 'ভোটাররা সুষ্ঠু ও সুন্দর এবং নির্বিঘ্নে ভোট প্রয়োগ করেন। বেলা ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৯১ হাজার ৫৫ ভোট। শতকরা ৫৪ পয়েন্ট ২০ ভাগ।'
এএইচ/এমএ