জামালপুরের ইসলামপুরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুর ব্যক্তিগত গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জেরে পাল্টা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলা ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কেউ হতাহত না হলেও সংসদ সদস্যের মেয়ের নির্দেশেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে এক পক্ষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে মলমগঞ্জ মডেল কলেজে সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে মঞ্চে বসা নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় সংসদ সদস্য ডাকবাংলোতে যান। এ সময় তার গাড়িতে একদল ব্যক্তি হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের ব্যবহৃত গাড়িতেও পাল্টা ভাঙচুর চালানো হয়।
উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু মুঠোফোনে বলেন, “দুষ্কৃতকারীরা আমার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমার সুনাম নষ্ট করতে এবং এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেই এটি করা হয়েছে।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব জানান, “মলমগঞ্জ অনুষ্ঠানে কয়েকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল। বিষয়টি সেখানেই মীমাংসা করা হয়। পরে আমার গাড়িতে উঠেই এমপিসহ আমরা ডাকবাংলোতে যাই। মাগরিবের নামাজের ওযু করার সময় শুনি গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “এমপির মেয়ে আমার গাড়ি ভাঙচুরের নির্দেশ দিয়েছিল। দুটো গাড়িই কালো হওয়ায় তার লোকজন আমার গাড়ি ভেবে এমপির গাড়িতে হামলা করে। পরে আমার গাড়িটিও ভাঙা হয়।”
নুরুল ইসলাম নবাবের অভিযোগ, “এমপি দলীয় নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে তার দুই মেয়েকে নিয়েই চলাফেরা করেন, মেয়েদের সিদ্ধান্তেই সবকিছু করেন। এ কাজে আমাকে বাধা মনে করা হয়। বিধায় মলমগঞ্জের অনুষ্ঠানের সূত্র ধরে ডাকবাংলোয় গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”
এ ব্যাপারে ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত ৮টার দিকে সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুকে নিরাপদে নিজবাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
জেজে/আরএন