শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শেরপুর-গাজীরখামার-নালিতাবাড়ী সড়কের প্রায় ৩০ মিটার পাকা অংশ। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে ঢলের পানি নেমে যাওয়ার পর সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি দৃশ্যমান হয়। সড়কটি ভেঙে সরু হয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে মাঝারি ও বড় যানবাহন চলাচল।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের গোল্লারপাড় এলাকায় চেল্লাখালী নদীর বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে গত দুই দিন ধরে পাহাড়ি ঢলের পানি নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করে। এর আগে দুই বছর আগেও একই এলাকায় বন্যার পানিতে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে এখনো সেটি পুরোপুরি সংস্কার না হওয়ায় নতুন করে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার বিকেল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নালিতাবাড়ী উপজেলায় ১১০ মিলিমিটার এবং সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও স্থলবন্দর এলাকায় ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে শুক্রবার বৃষ্টি না হওয়ায় বর্তমানে নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গোল্লারপাড় এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতে শেরপুর-গাজীরখামার-নালিতাবাড়ী সড়কের প্রায় ৩০ মিটার অংশের অর্ধেক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সড়কের সরু অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ছোট যানবাহন চলাচল করলেও বন্ধ রয়েছে বাস, ট্রাকসহ মাঝারি ও বড় যানবাহন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দুই বছর আগে একই স্থানে ভাঙন দেখা দিলেও তা স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। ফলে চেল্লাখালী নদীতে পাহাড়ি ঢল নামলেই সড়ক ও বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে পড়ে। দ্রুত বাঁধ ও সড়ক সংস্কার করা না হলে আসন্ন আমন মৌসুমে নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, ঢলের খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক। এ সময় এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, শেরপুর-গাজীরখামার-নালিতাবাড়ী সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গোল্লারপাড় এলাকায় নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল, যা অনুমোদন হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।
এমএস/আরএন